বাঁকুড়া : আবাস যোজনা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার ব্যাপক ক্ষোভ ছড়াল তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লেও, নির্মীয়মান দোতলা বাড়ির মালিক পঞ্চায়েত প্রধানের নাম রয়েছে চূড়ান্ত তালিকায়। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমী ঠাকুর দাবি অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় বহু গরিব উপভোক্তার নাম আবাস যোজনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় কাশিডাঙা বুথের ১১ জন প্রকৃত উপভোক্তার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কাশিডাঙা বুথের ১১ জনের নাম বাদ গেলেও জায়গা পেয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমী ঠাকুরের নাম। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বাদ পড়া উপভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রথম দফার তালিকায় ওই ১১ জনের নাম থাকলেও পরবর্তীতে টাকা না দেওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ পঞ্চায়েত প্রধান নিজেই এক আত্মীয়ের জমিতে দোতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রধান ভাড়া বাড়িতে থাকলেও গত এক বছর ধরে আত্মীয়ের জমিতে নিজের পাকা দোতলা বাড়ি নির্মাণ চলছে, যা সকলের চোখের সামনেই।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমী ঠাকুর। তাঁর দাবি, তাঁর নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই এবং তিনি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। নিয়ম মেনেই তাঁর নাম তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, কাশিডাঙা বুথের যাদের নাম বাদ পড়েছে, চূড়ান্ত সমীক্ষায় দেখা গেছে তাঁদের সকলেরই পাকা বাড়ি রয়েছে। উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি বিরোধী দল বিজেপির চক্রান্ত। তবে গ্রামবাসীদের একাংশের মতে, দোতলা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ সত্য হলে, আবাস প্রকল্পে পঞ্চায়েত প্রধানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া গুরুতর অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত।

