রবিবারের আইপিএল যেন হয়ে উঠেছিল ক্যাচ মিসের দিন। দুপুরের ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে লোকেশ রাহুলকে জীবনদান করেছিল, আর সন্ধ্যার ম্যাচে একই ভুল করল রাজস্থান রয়্যালস। জয়পুরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক সহজ ক্যাচ ফেলায় শেষ পর্যন্ত ২২৮ রান করেও হার মানতে হল রাজস্থানকে। ৯ বল হাতে রেখেই ২২৯ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে হায়দরাবাদ।
প্রথমে ব্যাট করে দুর্দান্ত শুরু করে রাজস্থান। দলের তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। মাত্র ৩৬ বলে শতরান করে তিনি ম্যাচের গতি বদলে দেন। ইনিংসের শুরুতেই প্রফুল্ল হিঙ্গের এক ওভারে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মেজাজ স্পষ্ট করে দেন। কয়েক দিন আগেই হিঙ্গে তাঁকে দ্রুত আউট করেছিলেন, তাই এই ম্যাচে বৈভবের মধ্যে আলাদা জেদ দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ১০১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে ধ্রুব জুরেলও দ্রুত ৫১ রান করে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রান তোলে রাজস্থান।
এত বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেতে পারত হায়দরাবাদ। প্রথম বলেই ট্রেভিস হেড উইকেটের পিছনে সহজ ক্যাচ দেন, কিন্তু জুরেল সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন। পরে অবশ্য একই ওভারে হেড আউট হন, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের শুরুতেই রাজস্থান বড় সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে।
এরপর আক্রমণে নামেন অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন। দু’জনেই পাল্টা মারে রান তুলতে থাকেন। অভিষেক একবার থার্ড ম্যানে ক্যাচ তুললেও ফিল্ডার বল দেখতে পাননি। পরে পয়েন্ট অঞ্চলেও তাঁর সহজ ক্যাচ মাটিতে পড়ে যায়। এই জীবনদানের পুরো সুবিধা নেন তিনি। মাত্র ২৯ বলে ৫৭ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন।
অন্যদিকে ঈশান আরও ভয়ংকর ছিলেন। রাজস্থানের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন তিনি। অধিনায়ক রিয়ান পরাগ একের পর এক বোলার বদল করলেও লাভ হয়নি। এমনকি নিজেও বল করতে আসেন। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে হায়দরাবাদ ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ঈশান ৩১ বলে ৭৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।
দু’জনের মধ্যে ৫৫ বলে ১৩২ রানের জুটি ভাঙার পরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি রাজস্থান। কারণ তখনও ফিল্ডিং ব্যর্থতা চলছিল। হাইনরিখ ক্লাসেনের সহজ ক্যাচও ফেলে দেওয়া হয়। এত সুযোগ প্রতিপক্ষকে দিলে জয়ের আশা করা কঠিন। শেষ দিকে প্রয়োজনীয় রান সহজেই তুলে নেয় হায়দরাবাদ।
ফলে বৈভব সূর্যবংশীর স্মরণীয় শতরানও কোনও কাজে এল না। ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হল রাজস্থানকে। আর হায়দরাবাদ প্রমাণ করল, বড় রান তাড়া করতে শুধু ব্যাটিং নয়, প্রতিপক্ষের ভুলকেও কাজে লাগাতে জানতে হয়। রবিবারের ম্যাচে সেটাই পার্থক্য গড়ে দিল।

