ত্রিমুখী পরকীয়ায় খুন গৃহবধূ, ৬ মাস পরে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার

ত্রিমুখী পরকীয়ায় জেরে খুন বছর ২৪ এর  গৃহবধূ রহিমা খাতুন। ৬ মাস নিখোঁজ থাকার পর  উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঈশ্বরী গাছা এলাকার ঢালী পাড়ার একটি পরিতক্ত রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেটকে সামনে রেখে পচা গলা গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় বাকিবিল্লা মণ্ডল ও তার বোন  তারাবানু বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বর্তমানে দু’জনই আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেপাজতে রয়েছে। বছর ২৪ এর রহিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। তার বাড়ি বনগাঁর গোপাল নগরের। তাকে খুঁজে না পেয়ে গোপালনগর থানায় অভিযোগ জানায় পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে গোপালনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় বাকিবিল্লা ও তার বোন তারাবানু বিবির বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত নেমে বাকিবিল্লা ও তারাবানুকে জেরা করে জানতে পারে ৬ থেকে ৭ মাস আগে বসিরহাটের বাদুড়িয়ার ঈশ্বরী গাছায় তারাবানুর শ্বশুরবাড়িতে রহিমাকে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে রান্না ঘরে মাটিতে পুঁতে দেয়। এরপর পুলিশ বাকিবিল্লা ও তার বোন তারাবানুকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ তদন্ত নেমে জানতে পারে বছর দশেক আগে গোপালনগর থানার নতিদাঙার বাসিন্দা রহিমা খাতুনের সঙ্গে গোপালনগরের সাতবেড়িয়া বাসিন্দা সেলিম মণ্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে থেকেই রহিমার সঙ্গে বাকিবিল্লা মণ্ডলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে দু’জনই আলাদা আলাদা জায়গায় বিয়ে করে নেয়। বিয়ের ৮ বছর পর রহিমা তার গ্রামের প্রতিবেশী বাকিবিল্লা মণ্ডলের সঙ্গে আবারও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর রহিমা তার ৭ বছরের মেয়েকে রেখে বাকিবিল্লার সঙ্গে মুম্বইতে তার বোন তারাবানুর স্বামীর কাছে চলে যায়। তারাবানু স্বামী জিয়ারুল মণ্ডল কর্মসূত্রে মুম্বইতে থাকত। সেখানে গিয়ে আবার জিয়ারুল মণ্ডলের সঙ্গে রহিমা মন্ডলের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই খবর পেয়ে তারাবানু ও তার দাদা বাকিবিল্লার রহিমাকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারপর ভাই-বোন পরিকল্পনা করে রহিমাকে বাড়ি থেকে ডেকে তারাবানুর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে আসে। সেখানেই মেরে বাড়ির রান্নাঘরের মাটি খুড়ে মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়। এদিন পচাগলা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনা রীতিমতো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি ওই তারাবানু বিবি রহিমাকে মেরে মাটিতে পুঁতে সেই বাড়িতে খাট বিছানা পাতিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে একাই রাত্রি বাস করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *