প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন, স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর আবেদন খারিজ

কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তাঁদের উভয়কেই তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত জানিয়েছে, অদিতি মুন্সির চার মাসের শিশুসন্তান থাকায় তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দেওয়া হচ্ছে। তবে জামিনের সঙ্গে বেশ কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে। অদিতিকে তদন্তকারী সংস্থার সাথে সহযোগিতা করতে হবে এবং তিনি আপাতত বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাঁকে নিজের পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

হাইকোর্ট অদিতি মুন্সিকে কোনো সাক্ষীকে প্রভাবিত না করারও নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, আপাতত তাঁর বাগুইআটি থানা এলাকায় প্রবেশ করার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এই মামলায় দেবরাজ চক্রবর্তীকেও তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে আদালত তাঁকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করেছে। এর আগে হাইকোর্ট এই রাজনৈতিক দম্পতির গ্রেফতারির ওপর ১৯ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয় ও পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই দম্পতির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, আর্থিক তছরুপ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত অনিয়মের মামলা সামনে এসেছে।

অদিতি মুন্সি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির বিবরণ কম দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, দেবরাজ চক্রবর্তীকে বিধাননগর পুরনিগমের একজন প্রভাবশালী কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য করা হয়।

পূর্ববর্তী শুনানিতে রাজ্যের তরফে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছিল যে, কালিম্পঙে এই দম্পতির একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এই অ্যাকাউন্ট ছাড়াও আরও বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল। দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই ব্যক্তির গ্রেফতারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এই রাজনৈতিক দম্পতির বিরুদ্ধে বিধাননগর এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং জমি দখলের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, দেবরাজ চক্রবর্তী ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার মামলাতেও অভিযুক্ত বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − six =