চার দিনে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ক্লান্তির কাছে ভেঙে পড়ে উরুগুয়ের কাছে হাফ ডজন গোল হজম ভারতের

চার দিনের ব্যবধানে ব্রাজ়িল এবং উরুগুয়ের মতো দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হল ভারত। ব্রাজ়িলের কাছে ০-৪ গোলে হারের পর উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও বড় ব্যবধানে হারতে হল সুনীলদের উত্তরসূরিদের। মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ১-৬ গোলে হারল ভারত। প্রথমার্ধে লড়াই করার মানসিকতা দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতীয় দলের একমাত্র সান্ত্বনা অনিরুদ্ধ থাপার গোল।

দলের প্রথম একাদশে দু’টি পরিবর্তন করেছিলেন কোচ খালিদ জামিল। সাহাল আব্দুল সামাদের বদলে এডমুন্ড লালরিনডিকাকে আক্রমণভাগে সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁকে মনবীর সিংহ ও রায়ান উইলিয়ামসের সঙ্গে খেলান খালিদ। রক্ষণে বিজয় ভার্গিসের জায়গায় নামেন পরমবীর। গোলের নিচে অবশ্য ব্রাজ়িল ম্যাচের মতোই গুরপ্রীত সিংহ সঁধুর উপর আস্থা রাখেন কোচ।

শুরুর কয়েক মিনিট উরুগুয়ের দখলেই ছিল বল। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ভারত। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করছিলেন আশিক কুরুনিয়ন এবং মনবীর। বেশ কয়েকটি ক্রসও উরুগুয়ের বক্সে পৌঁছয়। কিন্তু ১০ মিনিটেই আচমকা ধাক্কা খায় ভারত। প্রতি-আক্রমণে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ফেডেরিকো ভিনাস। তাঁকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করেন পরমবীর। পেনাল্টি পায় উরুগুয়ে। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডারউইন নুনেজ়। গুরপ্রীত বিপরীত দিকে ঝাঁপিয়েছিলেন।

গোল খেয়েও দমে যায়নি ভারত। বরং আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় তারা। ২৩ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের শট উরুগুয়ের গোলরক্ষক কার্ডোজ়ো আটকালেও বল পুরোপুরি বিপন্মুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বল থেকে গোল করে ভারতকে সমতায় ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা ভারতীয় দল। কিছুক্ষণের জন্য চাপে পড়ে যায় উরুগুয়ে।

সমতা ফেরানোর পর আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল ভারত। এডমুন্ড সামনে এগিয়ে গিয়ে সতীর্থদের বল বাড়ানোর বদলে নিজেই শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি পড়ে যাওয়ার পর ফিরতি বলে অভিষেক থেকচাম শট নিলেও কার্ডোজ়ো তা আটকে দেন।

এরপর আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় উরুগুয়ে। ২৯ মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সে বল বাড়ান বেন্টানকুর। সেখান থেকে ছোট্ট টোকায় বল জালে পাঠান রোনাল্ড আরাউহো। ফের পিছিয়ে পড়ে ভারত। বিরতির আগে অবশ্য ভারত একাধিক বার আক্রমণে উঠেছিল। রায়ান এবং মনবীর গোলের সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। ১-২ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় ভারত।

দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পুরোপুরি বদলে যায়। আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণের মাঝেই ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে ভারত। ৫৩ মিনিটে টপ বক্সের কাছ থেকে সালাজারের শট গুরপ্রীতের হাতের নীচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়। কয়েক মিনিট পরেই আবার গোল। ভিনাসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আরাউহো। ১-৪ হয়ে যায় ম্যাচ।

এর পর ভারতীয় ফুটবলারদের শরীরী ভাষাতেই ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল। চার দিনের মধ্যে দুই শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান দলের বিরুদ্ধে খেলার ধকল যেন প্রভাব ফেলতে শুরু করে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে ওঠার সেই গতি আর দেখা যায়নি। ৭১ মিনিটে ফের প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করে উরুগুয়ে। পেলিস্ত্রির পাস থেকে জালে বল পাঠান সানাব্রিয়া।

পঞ্চম গোলের পর গুরপ্রীতকে তুলে আলবিনো গোমসকে নামান খালিদ। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত। ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ষষ্ঠ গোল করেন আগুইরে। শেষ পর্যন্ত ১-৬ গোলে হার ভারতের।

দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করল ভারত। তবে অনিরুদ্ধের গোল এবং প্রথমার্ধের লড়াই কিছুটা আশা দেখিয়েছে। মনবীর, রায়ানদের কয়েকটি আক্রমণও ইতিবাচক। কিন্তু বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভারতকে আরও উন্নতি করতে হবে। আর চার দিনের মধ্যে ব্রাজ়িল-উরুগুয়ের মতো দুই দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার ধকল যে কতটা কঠিন, তার নির্মম প্রমাণ হয়ে থাকল যুবভারতীর এই রাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 4 =