ইপিএফও-র ক্ষেত্রে বেতনসীমা বাড়লো ২৫ হাজার পর্যন্ত, উপকৃত হবেন ৫১ লক্ষ কর্মী

নয়াদিল্লি : কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) অধীনে বাধ্যতামূলক আওতাভুক্তির জন্য বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী ইপিএফও-এর আওতায় আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বেতনের সীমা বাড়ার ফলে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাওয়া কর্মচারীদের একটি বড় অংশ বিধিবদ্ধ সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এ দিন ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর পর গড় বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আজ নিয়মিত বেতন পাওয়া কর্মচারীর গড় মাসিক আয় প্রায় ২৩ হাজার টাকা, যা ২০১৪ সালের পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক রাজ্য অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতনও ১৫ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণ করেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় ১৫ হাজার টাকার বেশি মাসিক বেতনে চাকরি শুরু করা কর্মী স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক ইপিএফ প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হন না। সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করায় এই ধরণের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি (ইপিএফ), কর্মচারী পেনশন প্রকল্প (ইপিএস) এবং কর্মচারী আমানত সংশ্লিষ্ট বিমা প্রকল্পের (ইডিএলআই) অধীনে উপলব্ধ সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি পাবে। এই সিদ্ধান্ত কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকীকরণকে ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অবসরকালীন সুরক্ষাকে শক্তিশালী করবে। ব্যাপক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কর্মচারীদের ভবিষ্যতের জন্য আরও সুরক্ষিত আর্থিক ভিত্তি প্রদান করবে। নিয়োগকর্তাদের জন্যও এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মীদের স্থায়িত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − four =