টিম ইন্ডিয়ার দাপটে কোণঠাসা ইংল্যান্ড

গৌরবের প্রতীক হয়ে ওঠা বাজবলই ভারতের মাটিতে ডেকে এনেছে ইংল্যান্ডের বিপর্যয়। ধরমশালা টেস্টেও ধর্মসংকটে স্টোকস বাহিনী। ভারতীয় স্পিনের ঝাঁঝে পঞ্চম টেস্টের প্রথম দিনে ২১৮ রানেই ধসে গেল ইংল্যান্ডের ব্যাটিং। শৈলশহরে উষ্ণতা ছড়ালেন দুই ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভাগ করে নিলেন ৯টি উইকেট। যার মধ্যে কুলদীপের শিকার সংখ্যা পাঁচ। আর শততম টেস্ট খেলতে নামা অশ্বিন ঝুলিতে ভরলেন চারটি উইকেট। মনে হয়েছিল, এই পিচে ব্যাট করতে সমস্যায় পড়বেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরাও। কিন্তু সেই আশঙ্কা উড়িয়ে অধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে যশস্বী জয়সওয়াল যোগ করেন ১০৪ রান। তুলে মারতে গিয়ে ৫৭ রানে আউট হন যশস্বী। তবে তার আগেই রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়ে ফেলেন এই তরুণ তুর্কি। প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সবচেয়ে কম টেস্ট (৯টি) খেলে পূর্ণ করলেন একহাজার রান। শুধু তাই নয়, চলতি সিরিজে ৭১২ রান এসেছে তাঁর ব্যাটে। এর আগে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে একমাত্র সুনীল গাভসকর একটি দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে সাতশোর উপর রান করেছিলেন। ১৯৭৮-৭৯’তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সানির ব্যাটে এসেছিল ৭৩২ রান। তার আগে ১৯৭১ সালে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৭৭৪ রান করেছিলেন লিটল মাস্টার। বৃহস্পতিবার তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন যশস্বী। প্রথম দিনের শেষে হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্রিজে রোহিত (৫২)। তাঁর সঙ্গী শুভমান গিল (অপরাজিত ২৭)। ১ উইকেটে ভারতের স্কোর ১৩৫। লিড নিতে দরকার আর মাত্র ৮৪ রান। খেলার যা গতিপ্রকৃতি, তাতে সিরিজের শেষ ম্যাচের রিমোটও থাকবে ক্যাপ্টেন রোহিতের হাতে।

তবে শুরুটা দেখে বোঝা যায়নি এভাবে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে ইংল্যান্ড। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ইংরেজ ওপেনার জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট যেভাবে খেলছিলেন, তাতে রানের ইমারতের স্বপ্ন দেখছিলেন ইংরেজ সমর্থকরা। বুমরাহ, সিরাজদের সুইং সামলে ক্রমশ তাঁরা শক্ত করেছিলেন পায়ের তলার জমি। কিন্তু ভারত অধিনায়ক কুলদীপ যাদব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের হাতে বল তুলে দিতেই ম্যাচের রং বদলায় দ্রুত। দুই স্পিনারের সাঁড়াশি আক্রমণে নাভিশ্বাস ওঠে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের। সেই লড়াইয়ে শামিল হন রবীন্দ্র জাদেজাও। একটা সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৬৪। পরের ১৫৪ রানে পড়ে ১০টি উইকেট। পঞ্চম টেস্টে রীতিমতো কোণঠাসা স্টোকস বাহিনী। কুলদীপকে তুলে মারতে যান ডাকেট। ব্যাটে-বলে হয়নি। পিছনের দিকে অনেকটা দৌড়ে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ তালুবন্দি করেন গিল। ইংল্যান্ডের পতনের সেই শুরু। ডাকেট ফেরেন ২৭ রানে। ওলি পোপ ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে কুলদীপকে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন। ইংল্যান্ডকে কিছুটা ভরসা জোগান ক্রলি (৭৯)। শেষ পর্যন্ত তিনিও কুলদীপের বলেই আউট হন।

এটা ছিল জনি বেয়ারস্টোরও শততম টেস্ট। কিন্তু মহাম্যাচে নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ ইংরেজ ব্যাটসম্যান। কুলদীপের বলে ২৯ রানে কট বিহাইন্ড হন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রথম চারটি উইকেটই কুলদীপের। তাঁর দেখানো পথে জো রুটকে (২৬) বোকা বনিয়ে আউট করেন জাদেজা। তারকা ব্যাটসম্যান ভেবেছিলেন বল ঘুরবে। কিন্তু বল সোজা গিয়ে লাগে প্যাডে। লেগ বিফোর হয়ে মাঠ ছাড়েন রুট। এরপর বেন স্টোকস এলবিডব্লু হন কুলদীপের বলে।

নিজের প্রথম উইকেটের জন্য বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয় অশ্বিনকে। শেষ পর্যন্ত টম হার্টলে তাঁর বলে ধরা পড়েন পাদিক্কালের হাতে। এরপর ঝড়ের বেগে ছেঁটে ফেলেন ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডারকে। চা পানের বিরতির পর অ্যান্ডরসনকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন অ্যাশ।

স্কোরবোর্ড:  প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড-ক্রলি বো কুলদীপ ৭৯, ডাকেট ক গিল বো কুলদীপ ২৭, পোপ স্টাম্পড জুরেল বো কুলদীপ ১১, রুট এলবিডব্লু বো জাদেজা ২৬, বেয়ারস্টো ক জুরেল বো কুলদীপ ২৯, স্টোকস এলবিডব্লু বো কুলদীপ ০, ফোকস বো অশ্বিন ২৪, হার্টলে ক পাদিক্কাল বো অশ্বিন ৬, উড ক রোহিত বো অশ্বিন ০, অ্যান্ডারসন ক পাদিক্কাল বো অশ্বিন ০, অতিরিক্ত ৫, মোট ৫৭.৪ ওভারে ২১৮। উইকেট পতন: ৬৪-১, ১০০-২, ১৩৭-৩, ১৭৫-৪, ১৭৫-৫, ১৭৫-৬, ১৮৩-৭, ১৮৩-৮, ২১৮-৯, ২১৮-১০। বোলিং: বুমরাহ ১৩-২-৫১-০, সিরাজ ৮-১-২৪-০, অশ্বিন ১১.৪-১-৫১-৪, কুলদীপ ১৫-১-৭২-৫, জাদেজা ১০-২-১৭-১।

প্রথম ইনিংসে ভারত-যশস্বী স্টাম্পড ফোকস বো বশির ৫৭, রোহিত ব্যাটিং ৫২, গিল ব্যাটিং ২৬, অতিরিক্ত ০, মোট ৩০ ওভারে ১ উইকেটে ১৩৫। উইকেট পতন: ১০৪-১। বোলিং: অ্যান্ডারসন ৪-১-৪-০, উড ৩-০-২১-০, হার্টলে ১২-০-৪৬-০, বশির ১১-২-৬৪-১।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 11 =