দুর্গাপূজায় পঞ্চমীর রাতে পুলিশের কড়া পাহারায় শহর, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ৩৩৪ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

কলকাতা : দুর্গাপূজার আবহে তিলোত্তমা কলকাতায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অভূতপূর্ব কড়াকড়ি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ প্রশাসন। মহাশক্তি পূজার প্রাক্কালে অর্থাৎ মহাপঞ্চমীর দিনে শহরের প্রতিটি ডিভিশনে বিশেষ ও নিবিড় অভিযান চালিয়ে অসামাজিক উপাদান এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে একাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক চালান ইস্যু করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে কলকাতা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পঞ্চমী তিথিতে শহরের বিভিন্ন ডিভিশনের পুলিশি তৎপরতায় মোট ২৮ জন অসামাজিক ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বেআইনি মদের বিক্রি ও পানের বিরুদ্ধে চালানো বিশেষ অভিযানে ৩.৬ লিটার বেআইনি মদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে এবং দুষ্কৃতীদের তৎপরতা ভেস্তে দিতে শহরজুড়ে কড়া টহলদারি চালাচ্ছে লালবাজারের বিশেষ বাহিনী।

অন্যদিকে, উৎসবে মেতে ওঠা রাজপথে পথচারী ও দর্শনার্থীদের সুরক্ষিত যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও ট্রাফিক আইন অমান্যকারী ও বেপরোয়া চালকদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পঞ্চমী রাতে ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন ট্রাফিক লঙ্ঘনের অপরাধে মোট ৩৩৪টি ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালানোর অপরাধে; যেখানে ৯২ জন চালকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৬৫ জন এবং মদ্যপ অবস্থায় বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর মতো গুরুতর অপরাধে ৬১ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শিকল কষা হয়েছে। একই বাইকে তিনজন আরোহী নিয়ে বিপজ্জনক ভ্রমণের অপরাধে ৩৫ জনের চালান কাটা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করায় ৮১টি মামলা রুজু করেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ।

পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, “দুর্গাপূজার সময়ে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। উৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, বাইক-স্টান্টবাজ ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই জিরো-টলারেন্স ও কঠোর অভিযান আসন্ন বিজয়া দশমী পর্যন্ত একইভাবে জারি থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + nine =