‘ওপরওয়ালার বিচার, তৃণমূল মৃত ও নির্মূল’, মমতার প্রতীক ফ্রিজ হওয়া নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ

কলকাতা : আগামী উপনির্বাচনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ নির্বাচনী প্রতীক ফ্রিজ করার পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তীব্র কটাক্ষ করেছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এটিকে ‘ওপরওয়ালার বিচার’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন যে, এখন তৃণমূল নামে কোনও দল অবশিষ্ট নেই, এটি সম্পূর্ণভাবে মৃত ও নির্মূল হয়ে গেছে।

শুক্রবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে শমীক ভট্টাচার্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বের ওপর তীব্র আক্রমণ শানান। অতীতের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এটি ওপরওয়ালার বিচার। একসময় উত্তর ২৪ পরগনা ও বারাকপুর এলাকায় তৃণমূল এই ফতোয়া জারি করেছিল যে, সিঁদুর বা আলতার প্যাকেটে পদ্মফুলের ছবি থাকলে তা বিক্রি করা যাবে না। আজ তাদের সঙ্গেই ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। তিনি কড়া সুরে বলেন যে, তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক থাক বা যাক, তাতে আমজনতার এখন আর কিছু যায় আসে না।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে কালীঘাট (মমতা) গোষ্ঠী এবং বিদ্রোহী ঋতব্রত গোষ্ঠীর কেউই উপনির্বাচনে ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশন শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে উভয় পক্ষকে নতুন নাম ও প্রতীকের বিকল্প জমা দিতে বলেছিল। শুরুতে কালীঘাট গোষ্ঠীর নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মানতে স্পষ্ট অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতার কারণে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ইমেলের মাধ্যমে কমিশনের কাছে তাদের নতুন নাম ও প্রতীকের তালিকা পাঠাতে হয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত গোষ্ঠীও নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের প্রস্তাবিত নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিয়েছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের নতুন দলের জন্য ‘লোকতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ বা ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম প্রস্তাব করেছে। নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তারা খাম, ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চ দাবি করেছে। তবে বাংলা রাজনীতিতে খাম চিহ্নের ব্যবহার ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) করে থাকে এবং টর্চ চিহ্নটি এসইউসিআই দলের। উভয় গোষ্ঠীর প্রস্তাবের ওপর এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =