কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিক্ষুব্ধ’ বিধায়ক তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে পৌঁছান। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত সপ্তাহে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিধায়ককে নিজেদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
বুধবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ ইডি দফতরে পৌঁছান মদন মিত্র। প্রবেশের মুখে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো ধরণের দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমি কোনো দুর্নীতিতে জড়িত নই। ইডি ডেকেছে, ইডির সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেব।”
পুরসভা নিয়োগ মামলার তদন্তে গত ১৪ জুলাই মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নোটিশ পাঠিয়েছিল ইডি। এর পর গত সপ্তাহে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাঁর দুই ছেলে শুভরূপ ও স্বরূপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, আর শুক্রবার তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা।
ইডি দফতরে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করেন। তবে মদন মিত্র সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। উল্লেখ্য, একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মদন মিত্র সম্প্রতি তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
তাঁর এই দলবদল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে—তবে কি ইডির তদন্তের চাপেই তিনি এই পদক্ষেপ করলেন? এর আগে এই প্রশ্নের জবাবে মদন মিত্র বলেছিলেন যে ইডির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ‘এবি’ (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)। দল ছাড়ার প্রধান কারণই হলেন অভিষেক।
বুধবার ইডি দফতরের বাইরে সাংবাদিকদের ভিড় দেখে হালকা মেজাজে মদন মিত্র বলেন, “আপনারা যদি এভাবে সবাই মিলে একসঙ্গে প্রশ্ন করে আমাকে আহত করে দেন, তবে আমি কারোর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।” তাঁর স্ত্রী ও ছেলেদের ইডির সমন এবং ব্যাংকের নথিপত্র সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
ইডি সূত্রের খবর, টিটাগড় পুরসভায় অন্তত ১২৫ জনকে নগদ টাকা বা সোনার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার তদন্তেই মদন মিত্রের নাম সামনে আসে। গত ১৩ জুন মদন মিত্র ঘনিষ্ঠ একাধিক ডেরায় তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি এবং তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পুরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কোনো বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

