পুজোয় ট্রেনের টিকিট পাননি? ঘুরে আসুন ওডিশার ‘গোয়া’-য়

সুস্মিতা মণ্ডল

গোয়া। নামটা শুনলেই মনটা নেচে ওঠে। পাহাড়ে কোলে সমুদ্র সৈকত। নারকেল গাছের শাড়ি।গোয়ানিজ ফুড।

তবে পুজোয় যাঁরা চেয়েও পাহাড় কিম্বা গোয়ার টিকিটের বন্দোবস্ত করতে পারেননি, ট্রেন ছাড়াই নিজেদের গাড়িতে কাছাকাছির মধ্যে ঘুরে আসতে চাইছেন, তাঁদের জন্য একটা সুন্দর সি-বিচের সন্ধান আছে, হাতের কাছেই।

ভাবছেন তো কোথায়? যদি বলি চির-পরিচিত পুরীতে। কি হল, হতাশ হলেন? ভাবছেন তো ভড়কি দিচ্ছি! তাহলে বলি একেবারেই না। ঘরের কাছেই আছে এমন এক সমুদ্র সৈকত যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।ভারতে এখনও পর্যন্ত যে ১২টি সমুদ্র সৈকত অত্যন্ত সম্মানীয় ব্লু ফ্ল্যাগ সংশাপত্র অর্জন করেছে তার মধ্যে পুরীর গোল্ডেন বিচ (Golden Beach, Puri) একটি।

শুধু তাই নয়, অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এই সাগরতটের সমস্ত ব্যবস্থাপণা দেখলে আপনার মনে হবেই ক্যায়া বাত! গোয়া না-ই বা হল, গোয়ার মতো পরিচ্ছন্ন সৈকত যদি মেলে, সেখানে থাকে সুবজের ছোঁয়া আর লাক্সারি হোটেল তাহলে পুজোর ছুটি কি জমবে না?

পুরী। ওডিশার এই সৈকত শহরের সঙ্গে বাঙালির প্রাণের যোগ। পুরীর সাগর মানে উত্তাল ঢেউ, ঘন সাদা ফেনা। সেই সাগরের টানই অমোঘ। গোল্ডেন বিচ ঠিক তেমনই একটা। পুরীর স্টেশন থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে সুবজে ঘেরা অত্যন্ত সুন্দর এই সমুদ্র সৈকত বছর দুই হল এসেছে লাইম লাইটে, ব্লু ফ্ল্যাগ (Blue flag beach, Puri, Odisha)ট্যাগ পাওয়ার পর।

ডেনমার্কের এফইই নামক সংস্থা (দ্য ফাউন্ডেশন ফর এনভায়রনমেন্ট এডুকেশন)বিশ্বজুড়ে সমুদ্র সৈকত, জলের গুণগত মান, বাস্তুতন্ত্র, নিরাপত্তা -সহ একাধিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ব্লু ফ্ল্যাগ সংশাপত্র দিয়ে থাকে। বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থানুকুল্যে ওডিশার এই সৈকতটিকেও সেই মানে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয় (ICZMP)ইন্টিগ্রেটেড কোস্টাল জোন ম্যানজমেন্ট প্রজেক্ট-এ। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সৈকতটির বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন শুরু হয়।

পুরীর কালেক্টরের নেতৃত্বে, তাঁকে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।পরবর্তীতে তারাই আবদেন করেন সংস্থাটিকে। এক্ষেত্রে মূলত চারটি বিষয় দেখে সার্টিফিকেট প্রদানকারী সংস্থা, জলের গুণগত মান, এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, এনভায়রনমেন্ট এডুকেশন ও সিকিওরিটি বা সুরক্ষা।

 

২০২০ সালে সেই সম্মান হাতে আসার পরই পুরীর গোল্ডেন বিচ হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সমুদ্র সৈকত খোলে গরমকালে সকাল ৫টা থেকে। খোলা থাকে রাত ৮টা পর্যন্ত।শীতে সৈকতে পর্যটকরা যেতে পারেন সকাল ৬টা থেকে। প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। স্নানের জন্য যেমন বিস্তৃত সৈকত রয়েছে, তেমনই স্নান করে জামাকাপড় বদল, কলের জলে স্নানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য মাথা পিছু নেওয়া হয় ৫০ টাকা।

সমুদ্র সৈকতে ঢোকার মুখে অজস্র গাছ রয়েছে। কাঠবাদাম থেকে ফুল, কী নেই সেখানে।চেয়ার ভাড়া পাওয়া যায়। বনসৃজন করা হয়েছে সৈকতের এক পাশে । রয়েছে জিমের নানা জিনিসপত্র। বাচ্চাদের পার্ক। পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার, প্রাথমিক চিকিত্সার বন্দোবস্তও। রয়েছে সমুদ্রের ধার বরাবর লম্বা হাঁটার রাস্তা।রয়েছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার।

হাঁটার রাস্তা, গোল্ডেন বিচ, পুরী

ভাবুন দেখি, ভোরের জগিং করছেন, সমুদ্রের উত্তাল হাওয়ায়। কিম্বা মিহি বালুতটে বসে মজা নিচ্ছেন সমুদ্রের।চারপাশ একেবারে পরিচ্ছন্ন। চাইলেও এক টুকরো কাগজ বা প্লাস্টিক পাবেন না।পাবেন না অতিরিক্ত ভিড়, কোলাহল।

এমন সুন্দর সমুদ্র সৈকত কলকাতার এত কাছে দ্বিতীয়টি যে নেই, সেটা জোর গলায় বলতে পারি। আর তাই এ সৈকতকে গোয়ার কোনও সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে তুলনা টানা মোটেও অত্যুক্তি নয়।

এবার আসি লাক্সারি হোটেলর কথায়। সৈকতের একেবারে গায়েই রয়েছে গোল্ডেন প্যালেস, জমিন্দার প্যালেস, মে ফেয়ারের মতো ভালো মানের হোটেল। লোকেশন দুর্দান্ত।পুজোয় যাঁরা চান একেবার প্রাইভেট বারান্দা থেকে গোল্ডেন বিচ উপভোগ করতে তাঁরা এই ধরনের হোটেলে থাকতে পারেন।

আশপাশে আরও অনেক বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। পুরীর আশপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। সেসবও দেখে নিতে পারেন।

খাওয়া- পুরী মানেই সমুদ্র। সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া খাবার আদর্শ জায়গা।পুরীর ছানাপোড়া, মদনমোহন, খাজার মতো মিষ্টির সুনাম সকলেই জানেন। ইদানীং পুরীতে কন্টিনেন্টালও মেলে।জগন্নাথ দেবকে দর্শন করে জগন্নাথ দেবের ভোগও প্রসাদ হিসেবে কিনতে পারেন।

কীভাবে যাবেন- পুরী যাওয়ার অসংখ্য ট্রেন আছে। ট্রেনে ভুবনেশ্বর গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতেও পুরী যেতে পারেন।

বাই রোড যাওয়ার সু ব্যবস্থা আছে। কলকাতা থেকে ১০ ঘণ্টাতেই গাড়ি করে পুরী পৌঁছনো যায়।

বিমানে ভুবনেশ্বর গিয়ে সেখান থেকে পুরী যেতে পারেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − four =