বৈভব সূর্যবংশীকে এতদিন মূলত বিস্ফোরক ব্যাটার হিসেবেই দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। কিন্তু দলীপ ট্রফিতে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর বল হাতে চমকে দিলেন এই কিশোর তারকা। পূর্বাঞ্চলের হয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে এক ওভারে ২ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের খেলায় নতুন এক দিকের পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে নেন বাঁহাতি স্পিনার সূর্যবংশী। ২৮তম ওভারে তাঁর ঘূর্ণিতে প্রথম শিকার হন কিশান লিংদোহ। ক্রিজ ছেড়ে বড় শট খেলতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান ব্যাটার। মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবর্ত ফিল্ডার দেনিশ দাস পিছিয়ে গিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। ওভারের পঞ্চম বলে ফের সাফল্য পান সূর্যবংশী। এবার তাঁর শিকার ইমলিওয়াতি লেমতুর। ব্যাটে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঈশান কিষাণের দিকে। নিচু হয়ে আসা বলটি দ্রুততার সঙ্গে তালুবন্দী করেন তিনি। মাত্র ৩ ওভার বল করেই সূর্যবংশীর বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ১১ রানে ২ উইকেট।
এই পারফরম্যান্সের পরই সামাজিক মাধ্যমে সূর্যবংশীকে অলরাউন্ডার বলে ডাকতে শুরু করেন সমর্থকেরা। তাঁর আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালসও মজার ইঙ্গিত দিয়েছে। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে তুলনার ইঙ্গিত রেখে তারা জানিয়েছে, সূর্যবংশীর মধ্যে এমন সম্ভাবনার লক্ষণ আগেই দেখা যাচ্ছিল।
অবশ্য বল হাতে সাফল্য এলেও ব্যাট হাতে একেবারেই ভালো যায়নি তাঁর। মাত্র ৬ বলে ৮ রান করে ফিরে যান তিনি। শুরুতেই পরপর ২টি চার মেরে আশার আলো দেখালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে তাঁর দলের ব্যাটিংয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করেন শাহবাজ আহমেদ ও সুদীপ কুমার ঘরামি। শাহবাজ ১৬৭ এবং সুদীপ ১৪৬ রান করেন। পূর্বাঞ্চল ৪৬৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়।
জবাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়। অভিজিৎ কে সরকারের ৫ উইকেটের দাপটে ফলোঅন করতে বাধ্য হয় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসেও বিপর্যয় কাটেনি।

