দিল্লি ক্যাপিটালস—এই দলটা যেন নিজেরাই জানে না, কোন দিনে তারা ঠিক কীভাবে খেলবে। এক ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং, আর পরের ম্যাচেই চরম ভরাডুবি—এই ওঠানামাই যেন তাদের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৬৪ রান করেও হার, আবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাত্র ৭৫ রানে অলআউট—এই দুই চরম বিপরীত ছবি এখনও টাটকা। কিন্তু সেই দলই আবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জিতে নিল এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে।
এই জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে লোকেশ রাহুল। তার পরিমিত অথচ দৃঢ় ইনিংস দলকে জয়ের রাস্তা দেখায়। প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৫ রান তোলে। রিয়ান পরাগের দুর্দান্ত ৯০ রানের ইনিংস এবং ডোনোভান ফেরেরার ঝোড়ো ক্যামিও সেই স্কোরকে শক্তিশালী করে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই রান যথেষ্ট হল না।
পরাগকে ঘিরে ম্যাচের আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ড্রেসিংরুমে ধূমপানের অভিযোগে তিনি জরিমানাও পান। যদিও নিষিদ্ধ হননি, তবুও সমালোচনা কম হয়নি। মাঠে নেমে সেই সব কথার জবাব যেন ব্যাট দিয়েই দিতে চেয়েছিলেন তিনি। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং, বাছাই করা শট এবং নিয়মিত বড় রান—সব মিলিয়ে এক পরিণত ইনিংস খেলেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই নাটকীয়তা ছিল। বৈভব সূর্যবংশী ও মিচেল স্টার্কের মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল সবাই, কিন্তু সেই মুহূর্ত তৈরি হল না। প্রথম ওভারেই যশস্বী জয়সওয়াল আক্রমণাত্মক শুরু করলেও দ্রুত আউট হন। পরে বৈভব সুযোগ পেয়েও বড় কিছু করতে পারেনি। কাইল জেমিসনের এক দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফিরে যায় সে।
শুরুর ধাক্কা সামলে রাজস্থানের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান পরাগ ও ধ্রুব জুরেল। তাদের মধ্যে ১০০ রানের বেশি জুটি দলের ভিত মজবুত করে। জুরেল আউট হলেও পরাগ নিজের ছন্দ বজায় রাখেন। তার ইনিংসে ছিল ধৈর্য আর আগ্রাসনের সুন্দর মিশেল।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিল্লির শুরুটা স্থির ছিল। রাহুল ও পাথুম নিসাঙ্কা মিলে শক্ত ভিত গড়ে দেন। নিসাঙ্কার দ্রুত ৬২ রান চাপ কমায়। রাহুল ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তুলে শেষে গতি বাড়ান। তার ৭৫ রানের ইনিংস দলকে ম্যাচে ধরে রাখে।
শেষের দিকে ম্যাচ জমে ওঠে। জয়ের জন্য শেষ ২৪ বলে দরকার ছিল ৪২ রান। তখন ক্রিজে ট্রিস্টান স্টাবস ও আশুতোষ শর্মা। অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঠান্ডা মাথার মিশেলে তারা চাপ সামলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। বড় শটের ঝুঁকি না নিয়ে হিসেবি ব্যাটিং করে তারা ম্যাচ শেষ করে।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং দিল্লির জন্য আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় ধাপ। তবে তাদের অনিয়মিত পারফরম্যান্সই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে—কোন দিনে তারা আসল রূপে ধরা দেবে, সেটাই এখন দেখার।

