গত মরশুমে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলার। সেই হতাশা ভুলে নতুন মরশুমে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলা। দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের শুরুতেই দাপট দেখালেন মহম্মদ শামি। তাঁর দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ২৪০ রানেই শেষ হয়ে গেল দিল্লির প্রথম ইনিংস। প্রথম দিনের শেষে তাই অ্যাডভান্টেজ বাংলা। কল্যাণীতে শামির এই আগুন ঝরানো বোলিং দেখার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এখনও কি জাতীয় দলে উপেক্ষিত থাকবেন এই বঙ্গ পেসার?
কল্যাণীর বাংলার ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা। অধিনায়কের সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে শুরু থেকেই দিল্লির ব্যাটারদের চাপে রাখেন বাংলার বোলাররা। অভিজ্ঞ শামি ছিলেন আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথের পাশাপাশি সুইংয়ে বিপাকে পড়েন দিল্লির ব্যাটাররা। ১৭.৩ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন শামি। তাঁর বোলিংয়ের ধারেই বড় রান তোলার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় দিল্লির।
শামিকে যোগ্য সঙ্গত দেন তরুণ স্পিনার আমির গনি। ১৩ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লির ইনিংসের গতি আটকে দেন আমির। পেস ও স্পিনের এই যুগলবন্দিতেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখে বাংলা।
আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমারের অবদানও বাংলার বোলিংকে শক্তিশালী করেছে। তাঁদের সাহায্যে দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখতে সফল হয় বাংলা। যদিও এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালান হৃতিক শোকিন। ৯৮ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শামির বলেই ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। তাঁর লড়াই না থাকলে দিল্লির স্কোর আরও কম হতে পারত।
৭৭.৩ ওভারে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় দিল্লির ইনিংস। প্রথম দিনেই প্রতিপক্ষকে অলআউট করে বাংলার সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত মরশুমের সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে নতুন অভিযান শুরু করার মঞ্চ তৈরি। শামির নেতৃত্বে বোলারদের এই পারফরম্যান্স বাংলার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এবার ব্যাট হাতে কতটা দাপট দেখাতে পারেন বাংলার ব্যাটাররা, সেদিকেই নজর থাকবে।

