আইপিএল ২০২৬ শেষ হওয়ার পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্দরেই শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। গত বার আটে, এ বার সাতে— অবস্থানের সামান্য উন্নতি হলেও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। মরসুম শুরুর আগেই চোট-আঘাতের ধাক্কা, বোলিং বিভাগে সমস্যা, আবার বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে অক্রিকেটীয় কারণে না পাওয়া— সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতি ছিল। তবু শক্তিশালী দল নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে পারে কেকেআর।
অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। অভিজ্ঞতা আর নেতৃত্বের জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দলের ফলাফল বলছে অন্য কথা। মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার ধরা পড়েছে দ্বিধা। বোলারদের ব্যবহার, ম্যাচের পরিস্থিতি সামলানো কিংবা প্রয়োজনীয় কঠোরতা— সব জায়গাতেই প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাট হাতে ১৪ ম্যাচে ৩৩৫ রান করলেও নেতৃত্বের জায়গায় প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
অন্য দিকে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে হতাশা আরও বড়। ২৫ কোটি টাকা দিয়ে কেনা ক্রিকেটারের কাছে দল অনেক বেশি চেয়েছিল। ১৪ ম্যাচে ৩২২ রান ও ৭ উইকেট— সংখ্যার বিচারে খারাপ না হলেও ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো অবদান খুব কম। ফলে এত বড় বিনিয়োগ ধরে রাখা হবে কি না, তা নিয়েই সংশয়।
বৈভব অরোরার উপরও ভরসা ছিল যথেষ্ট। বিশেষ করে হর্ষিত রানা ও মাথিশা পাথিরানার অনুপস্থিতিতে। কিন্তু তিনি ধারাবাহিক হতে পারেননি। ১১ উইকেট পেলেও রান খরচ করেছেন অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে।
চোটের জন্য কার্যত পুরো মরসুমটাই হারিয়েছেন মাথিশা পাথিরানা। ১৮ কোটি টাকার এই পেসারকে ঘিরে যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নই করা যায়নি। মাঠে ফিরে আবার চোট পাওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।
আর ফিনিশার হিসেবে ভাবা রমনদীপ সিংও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ৬৮ বলে ৮টি চার ও ২টি ছয়, স্ট্রাইক রেট ১২০.৫৮— শেষ ওভারের ক্রিকেটে যা যথেষ্ট নয়। ফলে তাঁর জায়গাও আর নিশ্চিত নয়।
একটা বিষয় স্পষ্ট— কেকেআর শুধু অবস্থান বদল নয়, আগামী মরসুমে দল বদলের দিকেও তাকিয়ে আছে। বড় নাম থাকলেই জায়গা নিশ্চিত নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা।

