কলকাতা : রান্নার গ্যাস গ্রাহকদের বড়সড় স্বস্তি দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি এলপিজি সংযোগের ই-কেওয়াইসি করানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ঘোষণা করেছে। ইতিপূর্বে এই ই-কেওয়াইসি করার শেষ তারিখ ছিল ১৬ আগস্ট। তবে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক এখনও ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করতে পারায় সময়সীমা আরও সাত দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ১৫ আগস্ট এবং রবিবারেও রাজ্যের একাধিক এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর কেন্দ্র খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে স্বাধীনতা দিবসের দিন ই-কেওয়াইসি করাতে আসা গ্রাহকদের সার্ভার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ‘অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশন’-এর সহ-সভাপতি বিজন বিশ্বাস জানান, এখনও বিরাট সংখ্যক গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি করা বাকি রয়েছে। বারবার সার্ভার ডাউন বা কারিগরি বিভ্রাট হওয়ায় গ্রাহকদের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটরদেরও চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
গ্রাহকেরা চাইলে ঘরে বসেই নিজ নিজ স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি শেষ করতে পারেন। এর জন্য ইন্ডিয়ান অয়েলের ‘IndianOil One’, ভারত পেট্রোলিয়ামের ‘Hello BPCL’ অথবা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের ‘HP Pay’ অ্যাপ ডাউনলোড করে ফেস রেকগনিশন বা মুখমণ্ডলের চেহারার মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এছাড়া স্থানীয় এলপিজি পরিবেশকের (ডিস্ট্রিবিউটর) অফিসে গিয়ে আঙুলের ছাপ (Biometric authentication), ফেস রেকগনিশন বা চোখের মণি (Iris scan)-র পরীক্ষার মাধ্যমেও ই-কেওয়াইসি করানো সম্ভব।
তেল সংস্থা ও পরিবেশকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এলপিজি কানেকশনের সঙ্গে আধার লিঙ্ক বা ই-কেওয়াইসি না করালে গ্রাহকদের প্রাপ্য ভর্তুকি পাওয়া বন্ধ হতে পারে। কলকাতায় বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডারে ১৯.৫৭ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করলে সাধারণ গ্রাহকদের বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে। ডিস্ট্রিবিউটরদের কথা অনুযায়ী, কলকাতায় বর্তমানে ৯৬৮ টাকার যে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার মেলে, সেই সুবিধাও ব্যাহত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে যে সমস্ত গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি করা ছিল না, তাঁদের রান্নার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দফায় এখনই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধের কথা না বলা হলেও, নির্ধারিত সময়ে ই-কেওয়াইসি না করালে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে পারে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

