নয়াদিল্লি : কেন্দ্রের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শনিবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় তাদের তিনটি প্রধান দাবির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে বৃহত্তর শিক্ষা ও পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে পাঁচ দফা দাবিপত্রের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে।
সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “আমরা সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন দফায় আলোচনা করেছি। যন্তর-মন্তরে বেশ কয়েক দিন ধরে চলা আমাদের আন্দোলনের তিনটি প্রধান দাবি ছিল। প্রথম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত আইনি মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না করা। তৃতীয় দাবি ছিল নিট-এর প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত সমস্যার পর যেসব পরিবার তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাঁদের এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।”
তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর অর্থ আমাদের প্রথম দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।”
এদিন সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও সরকার মেনে নিয়েছে। তিনি বলেন, “শুধু দিল্লি নয়, বিজেপি-শাসিত এবং বিজেপির সহযোগী দলগুলির শাসিত সমস্ত রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে—এটাই ছিল আমাদের দ্বিতীয় দাবি। সরকার এই দাবিতেও সম্মতি জানিয়েছে। শীঘ্রই এই এফআইআরগুলি প্রত্যাহার করা হবে বলে সরকার আমাদের আশ্বাস দিয়েছে।”
সৌরভ দাস আরও বলেন, সরকারের কাছ থেকে সমস্ত এফআইআরের কপি চাওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতেই ১৫ থেকে ২০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সরকার ওই সমস্ত এফআইআরের কপি সিজেপিকে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এরপর সেগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে সরকারের কাছে একটি লিখিত গ্যারান্টির খসড়া দিয়েছি। সরকার জানিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে তারা আমাদের এই বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দেবে। আমরা আশা করছি, মঙ্গলবারের মধ্যে এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আন্দোলনকারী বা আয়োজকদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করার বিষয়ে সরকারের লিখিত নিশ্চয়তা হাতে পাব।”
ক্ষতিপূরণের দাবি প্রসঙ্গে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “নিট-এর ঘটনায় যেসব পরিবার তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিলাম। সরকার জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী ওই পরিবারগুলিকে সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
এর পাশাপাশি, সিজেপির তরফে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার বৃহত্তর সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবিপত্রও সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কারের বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছি। এই দাবিগুলি নিয়ে প্রায় চার সপ্তাহ পর সরকারের সঙ্গে ফের বৈঠক হবে। বৃহত্তর সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এই সমস্ত দাবিও যদি সরকার মেনে নেয়, তাহলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করতে চাই।”
এরপরই সৌরভ দাস বলেন, “সম্মত শর্তগুলি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হবে—এই বিশ্বাসে এবং সদিচ্ছার ভিত্তিতে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করছে।”
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তর-মন্তরে বেশ কয়েক দিন ধরে সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শনিবারই ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
এর আগে জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দু’দফা বৈঠক হয়েছিল। শনিবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে তৃতীয় দফার আলোচনায় সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অংশ নেন। আলোচনার পরই তিনটি প্রধান দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়।

