হালিশহরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু; মানলেন পুলিশি গাফিলতি, মৃতের স্ত্রীকে চাকরি

হালিশহর : হালিশহরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় মৃত্যু হওয়া তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। মৃত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যুকে নিয়ে কাউকে রাজনীতির সুযোগ দেয়নি মৃতের পরিবার। তৃণমূলকর্মীর পরিবারকে ধন্যবাদ। ওঁরা সরকারের উপর আস্থা রেখেছে, এটা আমাদের বড় পাওনা। থানার ভিতরে পুলিশ হেফাজতে যে মৃত্যু হয়েছে তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। থানার আইসি-কে ক্লোজ করছি। আরও তদন্ত হবে।’

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে নেন শুভেন্দু, যিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক (আইও)-কে সাসপেন্ড করা হচ্ছে আর হালিশহর থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ’ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় প্রোটোকল মেনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পী গৌরীসারিয়াকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী এবং মৃতের পরিবারকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে মৃতের পরিবারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অ্যাটেনডেন্ট’ হিসাবে চাকরি দেওয়া হবে। তৃণমূলকর্মীর পরিবার আর্জি না-জানালেও বাড়িতে থাকা দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যও দেন শুভেন্দু। চাকরির বিষয়ে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মৃতের স্ত্রীকে এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তার পর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ।

শুক্রবার তাঁকে আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =