প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি উপহার মুখ্যমন্ত্রীর, দিল্লি থেকে বাংলার একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু

নয়াদিল্লি : দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রীকে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা এবং বকেয়া একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিন দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত ঠাসা। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক সারেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে স্পষ্ট জানান যে, কেবল ভাষণে কাজ হবে না, সাধারণ মানুষের জন্য প্রকৃত কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “সারা দেশে বিএনএস (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) চালু হলেও বাংলায় তা আগে লাগু করা হয়নি। রাজ্যে জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। বিএসএফ-কে দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জমি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমেই এই কাজগুলি সম্পন্ন করেছি।”

পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্রের কাছে যে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তোলা হতো, তার বিপরীতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি ছিল— খরচের সঠিক হিসেব (ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট) না দেওয়ার কারণেই বরাদ্দ আটকেছিল। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে সেই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পে রাজ্য সরকার ৩৯,০০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে। এছাড়া, আগামীকালই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যা রাজ্যের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে।

রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ সমস্যা মেটাতেও রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলের সুরক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের এদেশ থেকে তাড়াতে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট’ কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট— অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এর বাইরে আর কোনও শব্দ নেই। আমরা এদের কোনওভাবেই জামাই আদর করব না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + eight =