নয়াদিল্লি : “কোনও অবৈধ ভোটার যেন ভোট না দেন।” বুধবার এসআইআর মামলার শুনানিতে ভোট নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ‘ফর্ম-৬ জমা’ নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “এরকম হতে পারে। আপনাদের আপত্তি থাকলে সেটা জানান উপযুক্ত স্থানে জানান।”
এসআইআর নিয়ে এখনও ভোটার তালিকার ধোঁয়াশা অব্যাহত। এই আবহে বুধবার এসআইআর মামলার শুনানিতে এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, “বৈধ ভোটারের ভোটদান সাংবিধানিক অধিকার। ট্রাইবুনাল থেকে কেউ বৈধ ভোটার হয়ে ফেরেন তাদের ভোটাধিকার যেন কাড়া না হয়? কোনও অবৈধ ভোটার যেন ভোট না দেন, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিস্তা দিস্তা ফর্ম ৬ জমা পড়ে রয়েছে সিইও অফিসে। আমাদের কাছে ভিডিও আছে।” আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, “এত নথি যাচাই করা সম্ভব কীভাবে?” উত্তরে নির্বাচন কমিশন জানায়, “আমরা শুধু এটুকুই বলতে চাই নাম তুলতে ফর্ম জমা করা অধিকার।” তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “একজন ব্যক্তি ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা করছেন?” এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এরকম হতে পারে। আপনাদের আপত্তি থাকলে সেটা জানান উপযুক্ত স্থানে জানান।” আইনজীবী মহলের দাবি, এখানে
উপযুক্ত স্থান বলতে বিচারপতি নির্বাচন কমিশনকেই বুঝিয়েছেন। কারণ, ভোটার তালিকা আদালতের তদারকিতে কমিশনই করছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ”চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়েছে। বিচারাধীন থাকা নামের নিষ্পত্তির কাজ চলছে। সেই সময় কমিশনে কীভাবে বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে?” প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রায় প্রতি বারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।”
বিচারপতি বাগচী বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম ৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন এমন নয়।”

