চিপকে জয়ের হাসি চেন্নাই শিবিরে ! ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্লে অফের আশা প্রায় শেষ মুম্বইয়ের

আইপিএলের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ চেন্নাই ও মুম্বইয়ের লড়াই। এই দুই দল মিলিয়ে মোট দশবার শিরোপা জিতেছে, তাই তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ সব সময়েই বিশেষ গুরুত্ব পায়। সমর্থকেরা এই ম্যাচকে প্রায়ই ‘আইপিএলের এল ক্লাসিকো’ বলে উল্লেখ করেন। তবে চলতি আসরে এই মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে সম্পূর্ণ প্রাধান্য দেখিয়েছে চেন্নাই। তারা ইতিমধ্যেই মুম্বইকে দু’বার পরাজিত করেছে—একবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এবং এবার চিদম্বরম স্টেডিয়ামে। সর্বশেষ ম্যাচে চেন্নাই সহজ জয় তুলে নেয়।
এই ম্যাচে টসে জিতে মুম্বইয়ের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়। শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মুম্বই, ফলে বড় রানের ভিত গড়ে ওঠেনি। ওপেনিংয়ে রায়ান রিকেলটন ও উইল জ্যাকস নামলেও জ্যাকস দ্রুত আউট হয়ে যান। এরপর রিকেলটন ও নমন ধীর মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং দ্বিতীয় উইকেটে মূল্যবান রান যোগ করেন। রিকেলটন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছিলেন এবং কয়েকটি বড় শট মারেন, তবে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
মাঝের ওভারগুলিতে সূর্যকুমার যাদব কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও তিনিও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তিলক বর্মাও হতাশ করেন। অন্যদিকে নমন ধীর ধৈর্য ধরে খেলেন এবং অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। তিনি ৩৭ বলে ৫৭ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ধীরগতির ইনিংস খেলেন, যা দলের মোট রানে খুব বেশি সাহায্য করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মুম্বই নির্ধারিত ওভারে ১৫৯ রান তোলে।
চেন্নাইয়ের বোলারদের মধ্যে অংশুল কম্বোজ ও নূর আহমেদ উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করেন। কম্বোজ তিনটি উইকেট নেন এবং নূর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মুম্বইকে বড় স্কোর করতে দেয়নি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই খুব শান্ত ও পরিকল্পিতভাবে রান তাড়া করে। ওপেনাররা ধৈর্যের সঙ্গে শুরু করেন এবং পরে রুতুরাজ গায়কোয়াড় দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তাঁর অর্ধশতরানের উপর ভর করে চেন্নাই সহজেই লক্ষ্য পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা আট উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে চেন্নাইয়ের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে, অন্যদিকে মুম্বইয়ের জন্য প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং দুর্বল ব্যাটিং পারফরম্যান্স তাদের এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে। বাকি ম্যাচগুলো জিতলেও তাদের ভাগ্য খুব একটা বদলাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + one =