কলকাতা : বেআইনি অনুপ্রবেশকারী এবং অনুপ্রবেশের ফলে তৈরি হওয়া দেশের জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে আবারও গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য জুড়ে ডিজিটাল ‘সেলফ-এনুমারেশন’ তথা ২০২৭ সালের জনগণনার সূচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দায় নেওয়া ভারতের কাজ নয় এবং তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
বিধাননগরে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে এই জনগণনা অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে সাধারণ নাগরিককে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পোর্টালে প্রদান করা সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং আইনি সুরক্ষাবলয়ে থাকবে। এগুলো শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, সরকারি উন্নয়ন ও সঠিক পরিকল্পনার কাজেই ব্যবহৃত হবে, রাজনৈতিক বা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই। যারা প্রযুক্তিগত সুবিধার বাইরে বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করেন, নির্ধারিত সময়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এর পরেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্য বা দেশে থাকতে পারবে না। যথাযথ আইনি পথ অনুসরণ করে তাদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে এবং পূর্বের মতোই আগামী দিনেও তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করা ভারতের সাংবিধানিক দায়িত্ব নয় বলে তিনি কড়া মন্তব্য প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে সিএএ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা নিপীড়িত শরণার্থী এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এক চোখে দেখা সঠিক নয়। প্রকৃত নাগরিকদের চিন্তার কিছু নেই, কারণ এই জনগণনার মাধ্যমে রাজ্যের প্রশাসনিক রূপরেখা আরও সুদৃঢ় হবে।

