“এ বার শুধু নির্ভয় নির্বাচনের পর্ব হবে।” : নির্বাচন কমিশন

#eci

#bengalelection

#ceo

কলকাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে তিন দিনের সফরে এসেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের এই সফর শুরু হতেই প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও সামনে এসে পড়েছে।

সোমবার সকালে কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেখানে যাওয়ার সময়েই একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে ঘিরে কালো পতাকা দেখান এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভের মাঝেই মন্দিরে প্রবেশ করে পুজো দেন তিনি। তবে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি জ্ঞানেশ কুমার। মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাইবোনকে আমার নমস্কার। কালী মা সকলকে ভাল রাখুন।” বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সে বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চাননি এবং সরাসরি গাড়িতে উঠে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

 

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালীঘাটে পুজো দিয়ে রাজ্যের মানুষের কল্যাণ কামনা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “এ বার শুধু নির্ভয় নির্বাচনের পর্ব হবে।”

কমিশনের এই সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী। রবিবার রাত্রি প্রায় ৮টা নাগাদ প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে নিউ টাউনের হোটেলে যাওয়ার পথেও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কমিশনের গাড়িবহরকে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থী কর্মী-সমর্থকেরা আলাদা আলাদা ভাবে প্রতিবাদ দেখান। বামেদের বিক্ষোভ থেকে “নো ভোটার্স, নো ভোট” স্লোগানও শোনা যায়।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিশনের সদস্যরা। নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা এবং ভোট পরিচালনার নানা দিক নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।

এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার নোডাল আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। নির্বাচনের সময় বেআইনি অর্থ লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রুখতে কী ধরনের নজরদারি দরকার, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।

পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং আইজি-ডিআইজি স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেন কমিশনের সদস্যরা। জেলা স্তরে নিরাপত্তা, বুথ ব্যবস্থাপনা এবং বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসার এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক হবে। পরে রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পিযূষ পাণ্ডে-সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কমিশনের আলোচনা নির্ধারিত রয়েছে।

সফরের শেষ দিনে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ সাংবাদিকদের সামনে কমিশনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হতে পারে। তারপরই প্রতিনিধি দল দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।

কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফরের রিপোর্টের উপর নির্ভর করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + eighteen =