নয়াদিল্লি : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বর্তমান সময়ের এক অবতার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শেরিং তোবগে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে একজন যোগ্য নেতার তিনটি গুণ— জ্ঞান, করুণা এবং সাহস রয়েছে। এই সবকটি গুণই নিঃস্বার্থ সেবাবোধের সঙ্গে যুক্ত।
সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তোবগে ‘এক্স’-এ একটি নিবন্ধ শেয়ার করেছেন। তিনি মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই সাক্ষাতের সময় তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন তোবগে। যেখানে তিনি মোদীকে ‘বিষ্ণুর অবতার’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
তিনি বলেন, আমার কাছে প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব হলো নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে জ্ঞান, করুণা এবং সাহসের প্রতিফলন ঘটানো। আজ আমি এই গুণগুলোকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনায় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করছি। জ্ঞানের সূচনা হয় একটি উন্নত ভবিষ্যতের সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, এবং তিনি ভারতকে সেই দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছেন— স্বাধীনতার ঠিক এক শতাব্দী পর, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি বিকশিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয়দের মধ্যে এক অপরিসীম আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছেন। তিনি শুধু ভারতের জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি, বরং ভারতীয়দের সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করতে এবং সেই লক্ষ্যের দিকে কাজ করতে অনুপ্রাণিতও করেছেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে চলার প্রধানমন্ত্রীর মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ভারতের প্রতিবেশীদের সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষা করেছেন, গ্লোবাল সাউথ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০-র স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সফল প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘বিকশিত ভারত’-কে ‘বিকশিত ভুটান’-এর সঙ্গে যুক্ত করে তোবগে বলেন, “বি৪বি: ভারত ভুটানের জন্য; ভুটান ভারতের জন্য। বাক্যটি সহজ হলেও এর অর্থ অত্যন্ত গভীর।” আজ ‘বি৪বি’ সমগ্র ভুটান জুড়ে দৃশ্যমান— স্কুল ও হাসপাতালে, রাস্তা ও সেতুতে, জলবিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিতে, কৃষি ও শিল্পে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে নিজের নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বড় ভাই’ বলেও সম্বোধন করেছেন। তিনি জানান, পাঁচ বছর আগে তিনি তাঁর ‘বড় ভাই’-কে বলেছিলেন যে তিনি বিষ্ণুর অবতার। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর অবশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, তিনি সে সময় একদম সঠিক কথাই বলেছিলেন। তিনি বলেন, “শুধু তাই নয়, এখন আমি বুঝতে পেরেছি, তিনি কোন অবতার ছিলেন। বিষ্ণুর শেষ অবতার— যে অবতার বিশৃঙ্খলা জয়, ধর্ম প্রতিষ্ঠা এবং নবজীবন আনার সঙ্গে যুক্ত— কল্কি।”

