সালানপুরে মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারে গ্রেপ্তার ভিক্ষা দাদা

নিজস্ব প্রতিবেদন, আসানসোল: সালানপুরের বোলকুণ্ডার অর্ধনগ্ন অবস্থায় এক মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সালানপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁরই ভিক্ষা দাদা লাল্টু চট্টোপাধ্যায়কে (৪০)। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্পত্তির জেরেই ভিক্ষা দাদার হাতে বোনকে খুন হতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে মাধাইচক থেকে বোলকুন্ডা যাওয়ার রাস্তার পাশেই মিঠু রায় নামে এক মহিলার অর্ধনগ্ন অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পরে জানা যায়, মহিলা ধর্ষণের শিকার হননি এবং সেরকম কোনও অত্যাচারেরও চিহ্ন তাঁর শরীরে পাওয়া যায়নি। তবে শ্বাসরোধ করে তাঁর হত্যা করা হয়েছে। মিঠু রায়ের বাবা দামোদর রায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরেই পুলিশ তদন্ত নেমে মিঠু রায়ের মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস বের করে পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারে তাঁর ভিক্ষা দাদা বোলকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু চট্টোপাধ্যায়েরর সঙ্গে তাঁর সব থেকে বেশি কথাবার্তা হত।
পুলিশ লাল্টুকে সন্দেহের জেরে হেপাজতে নেয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের জেরে লাল্টু স্বীকার করে সম্পত্তি নিয়ে তার সঙ্গে মিঠুর দীর্ঘদিন ধরে একটা বচসা ও ঝঞ্ঝাট লেগেছিল। যেহেতু সব সম্পত্তির হিসাব-নিকাশ বহুদিন ধরেই লাল্টু রাখছিল, মিঠু বেশ কয়েকদিন ধরে সেই সেসব চাইছিলেন এবং এ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি হয়। মৃতার বাবা দামোদর আগেই ঘোষণা করেছিলেন তাঁর সম্পত্তি সমান দুই ভাগে ভাগ হবে, কিন্তু মিঠু বা লাল্টু কেউ তা চাননি বলে দাবি। তাঁরা দু’জনেই সম্পূর্ণ সম্পত্তির অধিকার চাইছিলেন এবং মিঠু তাঁর সমস্ত খরচ লাল্টুকেই দিতে বাধ্য করতেন বলেও দাবি।
পুলিশের আরও দাবি, মঙ্গলবার মিঠু রায় বাড়ি থেকে পিকনিকের নামে বেরলেও তিনি প্রথমে যান লাল্টুর পাহাড়গোড়ার বাড়িতে এবং সেখানে খরচবাবদ টাকার দাবি করেন। এই নিয়েই মিঠুর সঙ্গে তাঁর প্রথমে ঝগড়া তারপর হাতাহাতি সৃষ্টি হয় এবং রাগের বশে মিঠুর মুখ চেপে ধরে লাল্টু, তারই জেরে মৃত্যু হয় মিঠুর। তারপর মৃতদেহটি নিয়ে ট্যাম্পতে করে নিয়ে গিয়ে বোলকুন্ডার রাস্তার পাশেই জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায় লাল্টু। যা লাল্টু পুলিশের কাছে স্বীকার করে বলে দাবি। শনিবার ধৃত লাল্টু চট্টোপাধ্যায়কে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। তদন্তসাপেক্ষে ৬ দিনের পুলিশি হেপাজতের আর্জি জানানো হয়। আদালত অভিযুক্তকে পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *