আইপিএলের সবচেয়ে দামি দল বেঙ্গালুরু, চতুর্থ স্থানে চেন্নাই সুপার কিংস

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা আইপিএলের আর্থিক শক্তি আরও একবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের ব্র্যান্ড মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার মোট ব্যবসায়িক মূল্য ২০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে আইপিএলের নিজস্ব ব্র্যান্ড মূল্য বেড়ে হয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রীড়া ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল এই প্রতিযোগিতা।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ব্র্যান্ড মূল্যের তালিকায়। ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। প্রথমবার কোনও আইপিএল দল ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডি পেরোল। মাঠের ধারাবাহিক সাফল্য, বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অসাধারণ জনপ্রিয়তাই বেঙ্গালুরুকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ২০২৬ মরসুমে মাঠের ফল আশানুরূপ না হলেও ২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্র্যান্ড মূল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দলটি। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দীর্ঘদিনের সাফল্য এবং শক্তিশালী বাণিজ্যিক ভিত্তিই তাদের অন্যতম শক্তি।
তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ২৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে কলকাতা আবারও প্রমাণ করেছে, মাঠের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও তারা অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২০২৪ সালের শিরোপা জয়ের ইতিবাচক প্রভাব এখনও দলের জনপ্রিয়তায় স্পষ্ট।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। ২৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে তারা নেমে এসেছে চতুর্থ স্থানে। ধারাবাহিকভাবে ২টি হতাশাজনক মরসুম এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির মাঠের ভূমিকা কমে যাওয়াকে এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকার বাকি অংশেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। পঞ্চম স্থানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ষষ্ঠ স্থানে রাজস্থান রয়্যালস, সপ্তম স্থানে পাঞ্জাব কিংস, অষ্টম স্থানে গুজরাট টাইটান্স, নবম স্থানে দিল্লি ক্যাপিটালস এবং দশম স্থানে রয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস।
২০২৬ মরসুমে বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থানের মালিকানায় বড় বিনিয়োগও আইপিএলের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রচার, ডিজিটাল দর্শক, পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার জোরে আগামী কয়েক বছরে আইপিএলের আর্থিক মূল্য আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − two =