ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে নতুন ইতিহাস লিখলেন অসমের অস্মিতা চালিহা। দীর্ঘ অপেক্ষা, চোটের ধাক্কা এবং প্রত্যাবর্তনের কঠিন পথ পেরিয়ে ২৬ বছরের এই শাটলার রবিবার কোরিয়া মাস্টার্সের শিরোপা জিতে নিজের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করলেন। ফাইনালে চতুর্থ বাছাই চিনের হান চিয়ান শিকে ১৪-২১, ২১-১৪, ২১-১৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্ব সফরের শিরোপা নিজের নামে করলেন তিনি।
শুরুটা অবশ্য অস্মিতার পক্ষে ছিল না। প্রথম গেমে ১৪-২১ ব্যবধানে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাননি। দ্বিতীয় গেমে আক্রমণাত্মক ব্যাডমিন্টনের পাশাপাশি শক্তিশালী রক্ষণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। একের পর এক কার্যকরী স্ম্যাশ এবং নির্ভুল শটের সাহায্যে ২১-১৪ ব্যবধানে গেম জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান।
নির্ণায়ক গেমেও উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। মধ্য বিরতিতে ৯-১১ পিছিয়ে ছিলেন অস্মিতা। সেই মুহূর্তে ম্যাচ চিনের খেলোয়াড়ের দিকে হেলে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন ভারতীয় শাটলার। নিখুঁত শট, ধারাল আক্রমণ এবং অসাধারণ আত্মবিশ্বাসে দ্রুত ব্যবধান ঘুচিয়ে এগিয়ে যান তিনি।
১২-১১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর একটি দুর্দান্ত শটে ব্যবধান বাড়িয়ে ১৫-১১ করেন অস্মিতা। শেষ দিকে কোর্টের পিছন থেকে তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বারবার জয়সূচক শট খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯-১৪ এগিয়ে থাকা অবস্থায় হানের একটি রিটার্ন বাইরে চলে গেলে নিশ্চিত হয় অস্মিতার ঐতিহাসিক জয়।
এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ বিশ্ব সফরের ৩০০ বা তার বেশি স্তরের শিরোপা জেতা ভারতীয় মহিলা শাটলারদের তালিকায় এবার পঞ্চম নাম হিসেবে যুক্ত হল অস্মিতা। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল সাইনা নেহওয়াল, পিভি সিন্ধু, দেবিকা সিহাগ এবং তানভি শর্মার।
চোটের কারণে তিন মাস বাইরে থাকার পর মে মাসে কোর্টে ফিরেছিলেন অস্মিতা। ডান হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরার পর ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পান তিনি। ম্যাকাও ওপেনে সেমিফাইনালে ওঠার পর এবার কোরিয়ায় এসে পেলেন জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। গুয়াহাটির জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্রে পার্ক তে-সাংয়ের অধীনে অনুশীলন করা বিশ্ব র্যা্ঙ্কিংয়ের ৫০ নম্বর এই খেলোয়াড়ের সামনে এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখার সময়।

