এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে বারবার সোনার খুব কাছে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ভারতের। কখনও সামান্য পয়েন্টের ব্যবধান, কখনও আবার শেষ শটে ছোট্ট ভুল কোনও না কোনও কারণে অধরাই থেকেছে কাঙ্ক্ষিত সোনা। মঙ্গলবার অবশ্য সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে দিলেন না নীরু ধান্ধা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ রেখে একের পর এক নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করলেন তিনি। আর তারই পুরস্কার হিসেবে ভারতের পদক তালিকায় যোগ হল আরও একটি সোনা।
মহিলাদের ট্র্যাপ শুটিংয়ের ব্যক্তিগত বিভাগে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে নীরুকে। প্রতিটি রাউন্ডে ঠান্ডা মাথায় নিজের কাজ করে গিয়েছেন ভারতীয় শুটার। ফাইনালের শেষ পর্বে চিনের সুন ইউনংকে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে পিছনে ফেলে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তিনি। এশিয়ান গেমসের দশম দিনে ভারতের সোনার ঝুলিতে এল পঞ্চম পদক।
তবে দিনটি নীরুর জন্য আরও বিশেষ। কারণ ব্যক্তিগত বিভাগের আগে দলগত ট্র্যাপেও পদক জিতেছেন তিনি। অসীমা অহলাওয়াত এবং মনীষা কিরকে সঙ্গে নিয়ে দলগত বিভাগে নেমেছিলেন নীরু। সেখানেও সোনা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল ভারতীয় দল। কিন্তু ফাইনালে চিনের কাছে হারতে হয়। ফলে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তিন শুটারকে। ব্যক্তিগত বিভাগে সেই আক্ষেপ অবশ্য মিটিয়ে নিলেন নীরু। একই দিনে তাঁর গলায় উঠল জোড়া পদক।
শুটিংয়ের পাশাপাশি বক্সিং থেকেও ভারতের পদকের সংখ্যা বাড়ল। মহিলাদের ৬৫ কেজি বিভাগে ফাইনালে উঠে রুপো নিশ্চিত করেছেন পারভিন হুডা। ফলে ফাইনালে নামার আগেই তাঁর হাতে নিশ্চিত একটি পদক। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগেও দুরন্ত লড়াই করে ফাইনালের টিকিট কেটেছেন অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল। শুরুটা অবশ্য তাঁর পক্ষে ছিল না। প্রথম রাউন্ডে ১-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন ভারতীয় বক্সার। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয় রাউন্ড ৩-২ ব্যবধানে জিতে লড়াইয়ে ফিরে আসেন অঙ্কুশ। এরপর নির্ণায়ক রাউন্ডে আর কোনও সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষ ফাজলিদ্দিন এরকিন বোয়েভকে। ৫-০ ব্যবধানে সেই রাউন্ড জিতে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। অঙ্কুশের হাত ধরেও নিশ্চিত হল ভারতের আরও একটি রুপো। অন্যদিকে ৯০ কেজি বিভাগে সেমিফাইনালে হেরে গেলেও ব্রোঞ্জ পেয়েছেন নরেন্দ্র বারওয়াল।
দশম দিনের শেষে পদক তালিকাতেও ভারতের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। এখনও পর্যন্ত মোট ৪৭টি পদক এসেছে ভারতীয় অ্যাথলিটদের হাত ধরে। তার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সোনা, ২১টি রুপো এবং ২১টি ব্রোঞ্জ। শুধু বক্সিং থেকেই ইতিমধ্যে মোট ছয়টি পদক নিশ্চিত হয়েছে। ফলে সরকারি হিসাবের খাতায় ৫০ না হলেও, কার্যত পদকের সংখ্যা ইতিমধ্যেই অর্ধশতকের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে।
এখনও প্রতিযোগিতার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট বাকি। ক্রিকেট, হকি, অ্যাথলেটিক্স, তিরন্দাজির মতো খেলাগুলিতে ভারতের পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শেষ কয়েক দিনে পদক তালিকায় আরও বড় পরিবর্তন আসতেই পারে। গত এশিয়ান গেমসে ভারত ১০৬টি পদক জিতেছিল। এবার ইতিমধ্যেই ৪৭টি পদক এসেছে, সামনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। তাই শেষ পর্যন্ত ভারতের পদক সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।

