কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশপ্রিয় পার্কের ‘অমর একুশে উদ্যান’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ তথা রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজকে। শুধু উপস্থিতিই নয়, এই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেন। উত্তরীয় ও স্মৃতিচিহ্ন তুলে দিয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে অনন্ত মহারাজ তাঁর নিজস্ব মাতৃভাষায় রাজবংশী সমাজের অগ্রদূত চিলা রায়ের রচনার অংশ পাঠ করেন। মাতৃভাষা দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের সম্প্রদায়ের গৌরব এবং ভাষার ওপর তাঁর এই গুরুত্ব আরোপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মুখ্যমন্ত্রী ও অনন্ত মহারাজের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা অবশ্য নতুন নয়। লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গ সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং কোচবিহারে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘গ্রেটার কোচবিহার’-এর দাবিতে অনড় অনন্ত মহারাজকে বিজেপি রাজ্যসভায় পাঠালেও, পৃথক রাজ্যের দাবি কেন্দ্র খারিজ করার পর থেকেই পদ্ম শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। এমনকি কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া প্রকাশ্যেই দাবি করেছিলেন যে, নির্বাচনে তিনি অনন্ত মহারাজের সমর্থন পেয়েছিলেন।
এদিন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনন্ত মহারাজ সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে কোচ ও রাজবংশী জনজাতির জন্য বিজেপি প্রত্যাশিত কাজ করেনি। দলের প্রতি একরাশ হতাশা উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি আমাদের উপেক্ষা করেছে।” মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত, তবে আমার সম্প্রদায়ের দাবিদাওয়া ও উপেক্ষার বিষয়টি আমি সবসময় তুলে ধরব।”
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের অন্যতম মুখ অনন্ত মহারাজের এই অবস্থান বদল এবং মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ গ্রহণ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অন্দরে।

