দিঘা : আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জমকালো আয়োজনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় এক কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিঘার সমুদ্র সৈকত চত্বরের সমস্ত দোকানপাট টানা ছ’দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১১ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সমস্ত দোকান বন্ধ থাকবে। মূলত এই সময়ে পর্যটক ও অতিথিদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির চত্বর ও তার আশপাশের এলাকায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর দিঘায় ‘মা’র আগমনে, আনন্দ দিঘায়’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য ও দু’দিনের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই জমকালো অনুষ্ঠানকে ঘিরে দিঘা প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে পুরো সৈকত চত্বর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রঙিন আলো, সুদৃশ্য মূর্তি, ব্যানার ও হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। এই রাজ্যস্তরের বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
দিঘার জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন যে, এই অনুষ্ঠান চলাকালীন দিঘায় আগত পর্যটক ও ভিআইপি অতিথিদের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ও কঠোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। পর্যটন ম্যাপের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি টহলদারি এবং নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও, সাধারণ মানুষের ভিড় সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।
তবে সৈকত চত্বরে টানা ছ’দিন দোকানপাট বন্ধ রাখার এই নির্দেশিকার ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও সংকটের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। সোমবার সমুদ্র সৈকত চত্বরে হকার ও প্রসাধন ব্যবসায়ী রমেশ প্রধান “হিন্দুস্থান সমাচারের”-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপের সুরে জানান যে, এই দোকানটিই তাঁর পরিবারের একমাত্র জীবিকা ও আয়ের উৎস। দুর্গাপূজার মতো প্রধান মরসুমে টানা ছ’দিন দোকান বন্ধ থাকলে তাঁদের চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তবে প্রশাসনের নির্দেশ ও সার্বিক জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে কিছুটা বাধ্য হয়েই তাঁদের এই বড় ক্ষতি মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

