ডুরান্ডের পর কলকাতা লিগেও দাপট ইস্টবেঙ্গলের, প্রায় নিশ্চিত সুপার সিক্স

ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলে এখন যেন সাফল্যের জোয়ার। সিনিয়র দল সদ্য ডুরান্ড কাপ জিতেছে, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। মহিলা দলও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দারুণ ছন্দে রয়েছে। সেই সাফল্যের আবহে কলকাতা লিগেও জয়রথ থামছে না লাল-হলুদ শিবিরের। কালীঘাট মিলন সংঘকে ১-০ গোলে হারিয়ে সুপার সিক্সে ওঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা।
ভবানীপুরের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট হওয়ায় কিছুটা চাপে ছিল ইস্টবেঙ্গল। তাই ঘরের মাঠে জয় ছাড়া অন্য কোনও লক্ষ্য ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লাল-হলুদ ফুটবলাররা। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল ছিল তাদের কাছেই। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা মিলছিল না। কারণ কালীঘাটের গোলরক্ষক রঞ্জন সোরেন দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে একাই বহু নিশ্চিত গোল রুখে দেন।
প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের চাকু মান্ডি, বিজয় মুর্মুসহ একাধিক ফুটবলার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু রঞ্জনের অসাধারণ সেভ এবং কখনও গোলপোস্টের বাধায় হতাশ হতে হয় তাদের। ফলে বিরতির সময় স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। তবে মাঠের খেলায় ইস্টবেঙ্গলের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি দেখা যায়। আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে লাল-হলুদ। কালীঘাটও মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে তেমন সমস্যায় ফেলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে কালীঘাটের এক ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট-কিক নিতে এসে অভিজ্ঞ মনতোষ মাঝি কোনও ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল খাওয়ার পর কালীঘাট সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কালীঘাটের গোলরক্ষক একটি সহজ বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে না পারায় ফাঁকা গোল সামনে পেয়েছিলেন বিজয় মুর্মু। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ এলেও গোলের সংখ্যা আর বাড়েনি।
স্কোরলাইন ১-০ হলেও ম্যাচের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইস্টবেঙ্গল অন্তত পাঁচ-ছয়টি গোল করতে পারত। আক্রমণভাগের দুর্বল ফিনিশিং অবশ্য কোচিং স্টাফের চিন্তার কারণ হয়ে থাকবে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, দল নিয়মিত সুযোগ তৈরি করতে পারছে এবং প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে।
এই জয়ের ফলে সাত ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ দাঁড়াল ১৭ পয়েন্ট। গ্রুপ ‘এ’-তে তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এখনও দুটি ম্যাচ বাকি, যার মধ্যে রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত কলকাতা ডার্বি। সেই ম্যাচের সূচি এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপার সিক্সে ইস্টবেঙ্গলের জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে মোহনবাগানের পরবর্তী ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে আসন্ন ডার্বির ফলাফলের উপর। ফলে কলকাতা লিগের লড়াই আরও জমে ওঠার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − 12 =