আইএসএলের প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হেরে মরশুম শুরু হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ে ফেরার তাগিদ ছিল প্রবল। তার উপর মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যা, সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও দমে গেল না সবুজ-মেরুন। দ্বিতীয়ার্ধে লি আরউইন ও মিগুয়েল ফিগেইরার জোড়া গোলে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মরশুমের প্রথম জয় তুলে নিল মোহনবাগান। উৎসবের মরশুমে সমর্থকদের এর চেয়ে ভাল উপহার আর কী হতে পারে!
দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম থেকেই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছিল স্বাগতিক দল। সপ্তম মিনিটে দূর থেকে শট নেন রদ্রিগিনিয়ো। ১৮ মিনিটে হামতের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মোহনবাগান পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও দিল্লির রক্ষণ বার বার সেই আক্রমণ আটকে দেয়। ২৩ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় দিল্লি। বাঁ দিক থেকে আসা লম্বা বল বুক দিয়ে নামিয়ে দ্রুত বাগানের বক্সে ঢুকে পড়েন লালরিনলিয়ানা হামতে। বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমার্ধে আর গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে দিল্লি।
বিরতির পর খেলার গতি বাড়ায় মোহনবাগান। ৫০ মিনিটে দেজান দ্রাজিচের পাস পেয়ে থাপার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৫৩ মিনিটে আইমেনের শট আটকে দিয়ে দলকে বাঁচান কাইথ। তবে ৫৬ মিনিটে আর আটকে রাখা যায়নি বাগানকে। আক্রমণ গড়ে রাহুল ভেকে বল বাড়ান লি আরউইনের উদ্দেশে। কাছ থেকে বল জালে ঠেলে সমতা ফেরান আরউইন। ম্যাচ তখন ১-১।
এর পরেই জয়ের রাস্তা খুলে যায় সবুজ-মেরুনের। ৬০ মিনিটে অভিষেক টেকচাম অসাধারণ দক্ষতায় চার জন দিল্লি ফুটবলারকে কাটিয়ে বক্সে বল বাড়ান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন মিগুয়েল ফিগেইরা। নোরা ফার্নান্দেসকে পরাস্ত করে মোহনবাগানকে প্রথমবার এগিয়ে দেন তিনি। স্কোরলাইন ২-১।
৬২ মিনিটে আরউইনের শট বাঁচিয়ে দিল্লিকে ফেরার আশা দেখান নোরা। ৭৫ মিনিটে বক্সে পড়ে পেনাল্টির আবেদন করেন রদ্রিগিনিয়ো, কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ৭৮ মিনিটে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন মিগেল। তাঁর পরিবর্তে নামেন সাহাল আব্দুল সামাদ। ৮৫ মিনিটে সাহালের পাস থেকে সামির জেলকোভিচের শটও আটকে দেন দিল্লির গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত আর গোল হয়নি। প্রথম ম্যাচের হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ে ফিরে মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যাকে স্মরণীয় করে রাখল মোহনবাগান।

