কলকাতা : মিথ্যে অভিযোগ এনে সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার এ কথা জানাল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মতে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশিকা দিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন! একাধিক প্রমাণ সামনে এনে বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে মাইক্রো অবজার্ভারদের নির্দেশ দিচ্ছেন, বলে অভিযোগ করে তিনি স্বপক্ষে একাধিক ‘স্ক্রিনশট’ সামনে এনেছেন।
অভিষেকের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরগন মাইক্রো অবজার্ভারদের সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। অভিষেকের প্রশ্ন কার নির্দেশে এই কাজ করা হচ্ছে? তিনি লেখেন, ‘আমি কি নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দেব যে, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা সহায়ক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে? তাহলে কার নির্দেশে, কেন আইনসম্মত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে?’
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোটেই অমান্য করা হচ্ছে না। লোককে বিভ্রান্ত করে এসআইআর-বিরোধিতার বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক এই প্রতিবেদককে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের করা মামলায় ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, হোয়াটসঅ্যাপে নয়, নির্দেশিকা দিতে হবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ইসি প্রয়োজনীয় নির্দেশিকার বিজ্ঞপ্তি যথাসময়ে জারি করেছে।
সি মুরগন কোনও নির্দেশ কাউকে দেননি। উনি যাচাই (ক্লারিফিকেশন) করেছেন মাত্র। নানা জায়গায় প্রচুর নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যাচাইয়ের কাজ তৎক্ষণাৎ করতে হয়। হোয়াটসঅ্যাপে এই কাজে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।“
এক্সবার্তায় অভিষেকের অভিযোগ, “মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনও সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নিতে পারবেন না। তাঁরা সাহায্য করতে পারবেন বলে নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।” এ ব্যাপারে ইসি-র দাবি, “সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ঠিকমতই মানা হচ্ছে। অহেতুক ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে চেষ্টা হচ্ছে কমিশনের কাজে বাধা তৈরির।”

