বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, যৌন নির্যাতন এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির পর আদালত অভিষেককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত ফোন, ল্যাপটপ-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেছেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালীন তাঁদের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে কথাবার্তাও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রায় দেড় বছর আগে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। সেই সময়ও বিষয়টি পুলিশের কাছে পৌঁছেছিল। তবে তখন তিনি লিখিত অভিযোগ করেননি।
পরবর্তীতে চলতি বছরের জুন মাসে মায়ের সঙ্গে মগরা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, যৌন নির্যাতন এবং ব্ল্যাকমেলের মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা শুরু হয়। তদন্তে নামে পুলিশ।
অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি বর্তমানে ভালো খেলছেন বলেই তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের কথা সামনে আসছে। অর্থাৎ অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন ক্রিকেটার।
মামলাটি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। গত ১৯ জুলাই এই মামলার শুনানিতে আদালত তদন্ত নিয়ে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেকের ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা ও বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর থেকেই মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
মঙ্গলবার ফের মামলাটির শুনানি হয় কলকাতা হাই কোর্টে। এদিন আদালত অভিষেককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তাঁর ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলিও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে ওই ডিভাইসগুলিতে থাকা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও অভিষেকের কাছে রয়েছে। সেগুলি যাতে কোনওভাবেই প্রকাশ্যে না আসে বা ছড়িয়ে না পড়ে, সেই বিষয়টিও মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। আদালতের নির্দেশের পিছনে এই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে মামলাটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেকের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। শুরু থেকেই তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। ফলে এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের হাতে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ উঠে আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলার ক্রিকেটে পরিচিত নাম অভিষেক পোড়েল। দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবেও তিনি খেলেছেন। ক্রিকেটীয় কেরিয়ারে যখন তিনি নজর কাড়ছেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁকে ঘিরে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে তাঁকে।
এখন আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। কারণ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনত অভিষেককে দোষী বলা যায় না। তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে এই মামলার প্রকৃত চিত্র।

