হাওড়া : শনিবার সকালে থেকেই হাওড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা গেল এক বিশেষ রাজনৈতিক আবহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী–র ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভোর থেকে কর্মী-সমর্থকদের যাত্রা শুরু হয় কলকাতার উদ্দেশে। ট্রেন, বাস, নৌকা— যে যেভাবে পারছেন, সেভাবেই পৌঁছতে চাইছেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত সভায়।
হাওড়া স্টেশন চত্বরে সকাল থেকেই বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিজেপি সমর্থকেরা দলবদ্ধভাবে পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান শহরের দিকে। স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং হাওড়া বাসস্ট্যান্ডেও কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। অন্যদিকে গ্রামীণ হাওড়ার বাউড়িয়া ও সংলগ্ন ঘাটগুলিতে নদীপথেও ভিড় জমে। বহু মানুষ নৌকায় চেপে গঙ্গা পেরিয়ে ব্রিগেডমুখী যাত্রা করেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওড়া ব্রিজেও ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। ব্রিগেডের দিকে ছোট ছোট মিছিল ও পদযাত্রা এগোতে থাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। তবে কর্মীদের উৎসাহে কোথাও ভাটা পড়েনি। দলীয় পতাকা হাতে স্লোগানের মধ্যেই এগিয়ে যেতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
এক বিজেপি কর্মী উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আজকের দিনটা আমাদের কাছে বিশেষ। বাংলার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে শুনতে চাইছেন বলেই এত মানুষ ব্রিগেডে যাচ্ছেন।” আর এক সমর্থকের কথায়, “বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, তা শোনার জন্যই আমরা সকাল থেকেই রওনা দিয়েছি।”
হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু হওয়া বহু দলীয় কর্মীর মিছিল ধীরে ধীরে কলকাতার দিকে অগ্রসর হয়। কোথাও কোথাও ভিড়ের কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হলেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্রিগেডে পৌঁছতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতির দিকনির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সকাল থেকেই হাওড়া হয়ে কলকাতার দিকে মানুষের এই যাত্রা যেন এক বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশের পূর্বাভাস বহন করছে।

