পুরো ম্যাচজুড়ে খুব একটা চোখে পড়ছিলেন না আর্লিং হালান্ড। আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ তাঁকে শক্তভাবে আটকে রেখেছিল। কয়েকবার প্রতিপক্ষের বক্সে ঢোকার চেষ্টা করলেও সেই পরিচিত ধার দেখা যায়নি। এমনকি সহজ একটি সুযোগও নষ্ট করেছিলেন তিনি। তবুও বড় ফুটবলারদের বিশেষত্ব এখানেই—একটি সুযোগই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেই কাজটাই করলেন নরওয়ের অধিনায়ক। তাঁর ৮৬ মিনিটের জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল নরওয়ে। এবার তাদের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আইভরি কোস্ট আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মাঝমাঠের দখল নিয়ে তারা নরওয়ের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলেছিল। তবে প্রথম গোলটি আসে নরওয়ের পক্ষেই। ৩৯ মিনিটে বাঁদিক থেকে দুরন্ত গতিতে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তরুণ উইঙ্গার অ্যান্তোনিও নুসা। গোলটির সৌন্দর্য মুহূর্তের মধ্যেই দর্শকদের মুগ্ধ করে। ব্রাজিলের তারকা নেইমারের খেলার ধাঁচের সঙ্গে মিল থাকায় অনেকেই সেই তুলনা টানতে শুরু করেন। এই গোলের মাধ্যমে নুসা বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখান।
গোলের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নরওয়ের হাতে ছিল না। বরং আইভরি কোস্ট আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হালান্ডের সামনে সুবর্ণ সুযোগ এলেও মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন। তাঁর মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের কাছ থেকে এমন ভুল খুব কমই দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে সেই ভুলেরই প্রায় মূল্য দিতে হচ্ছিল নরওয়েকে। ৭৪ মিনিটে আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়াল্লো ডানদিক থেকে একক প্রচেষ্টায় এক অসাধারণ গোল করেন। একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ম্যাচে সমতা ফেরান। গোলটি ছিল ব্যক্তিগত দক্ষতার অসাধারণ প্রদর্শন, যা ম্যাচে নতুন উত্তেজনা এনে দেয়।
সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই নিজের জাত চিনিয়ে দেন হালান্ড। ৮৬ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল থেকে সহজ সুযোগ পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। গোটা ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে না পারলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলকে জয় এনে দেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার।
এই জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে ইউরোপের দেশটি। সেই বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সিতে খেলেছিলেন হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। তবে তখন নকআউট পর্বে সাফল্য আসেনি। প্রায় তিন দশক পরে ছেলের নেতৃত্বে সেই অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ হল। শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল নরওয়ে।
এবার তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে নরওয়ে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি, তবুও জয় তুলে নিয়েছে। কারণ দলে রয়েছেন আর্লিং হালান্ডের মতো একজন ম্যাচজয়ী ফুটবলার। বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই তাঁর গোলসংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। সেই ধার বজায় থাকলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধেও চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখতেই পারে নরওয়ে।

