লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ, ১৪ বছর পর দলীপের মুকুট পূর্বাঞ্চলের

দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান। চেন্নাইয়ের মাঠে দক্ষিণাঞ্চলকে টপকে দলীপ ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হল পূর্বাঞ্চল। ফাইনাল শেষ হল অমীমাংসিতভাবে, কিন্তু প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের বিশাল লিডই ঈশান কিষাণের দলকে শিরোপা এনে দিল। পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তোলার পর দুই অধিনায়কের সম্মতিতে খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৭০৮ রানের পাহাড় গড়েছিল পূর্বাঞ্চল। অধিনায়ক ঈশান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে খেলেন ২৭০ রানের দুরন্ত ইনিংস। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন কুমার কুশাগ্র। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৭২, শিখর মোহন ৮৫ এবং বৈভব সূর্যবংশী ৪৪ রান করে দলের বড় সংগ্রহের ভিত মজবুত করেন।
জবাবে দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংস থামে ৩৩৬ রানে। অধিনায়ক তিলক বর্মা ৯৯ রান করে মাত্র ১ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করেন। দেবদত্ত পাডিক্কাল করেন ৬২ রান। তবে বাকিদের ব্যর্থতায় বড় লিডের চাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পূর্বাঞ্চলের হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মহম্মদ শামি। নিজের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়ে স্মরণীয় করে রাখেন এই অভিজ্ঞ পেসার। মুকেশ কুমার নেন ৩ উইকেট।
চতুর্থ দিনের শেষে পূর্বাঞ্চলের রান ছিল ৫ উইকেটে ২১২। পঞ্চম দিনে অন্তত দু’টি সেশন ব্যাট করার পরিকল্পনা ছিল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের বোলাররা প্রায় দুই সেশনে মাত্র ২টি উইকেট তুলতে পারেন। ততক্ষণে পূর্বাঞ্চলের লিড চলে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে দাপট দেখান ঈশান। শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে ৮০ রানে ফিরলেও ততক্ষণে দলের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শিখর মোহন করেন ৫২ রান। এরপর মহম্মদ কৌনাইন কুরেশি ও অনুকূল রায়ের ১৫০ রানের জুটি ম্যাচের শেষ উত্তেজনাটুকুও দূর করে দেয়। অনুকূল ৬৪ রানে ফেরেন, কুরেশি অপরাজিত থাকেন ১১৬ রানে।
৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বাঞ্চল। অধিনায়ক ঈশানের প্রস্তাবে সম্মতি জানান দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক তিলকও। করমর্দনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ফাইনাল। এরপরই মাঠে শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের উৎসব। বৈভব সূর্যবংশীর নাচ, সতীর্থদের উচ্ছ্বাস আর ঈশানের নেতৃত্বে ট্রফি উদযাপন— সব মিলিয়ে স্মরণীয় হয়ে রইল দিনটি। ১৪ বছর পর দলীপ ট্রফির মুকুট ফিরে পেল পূর্বাঞ্চল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 14 =