রনজি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল বাংলা শিবির। কিন্তু সেই সাফল্যের মধ্যেও যে সমস্যাটা বারবার সামনে আসছিল, তার কোনও সমাধান এখনও খুঁজে পেল না লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। ব্যাটিং বিপর্যয় যেন বাংলার পিছুই ছাড়ছে না। প্রতিটি ম্যাচেই টপ অর্ডারের ব্যর্থতা দলকে চাপে ফেলে দিচ্ছে। কখনও অভিষেক পোড়েল, কখনও শাহবাজ আহমেদ কিংবা অন্য কোনও ব্যাটারের লড়াইয়ে সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছচ্ছে বাংলা। শেষ পর্যন্ত বোলারদের হাত ধরেই আসছে জয়। মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইডেনেও সেই একই ছবির পুনরাবৃত্তি। তবে এবার শুধু টপ অর্ডার নয়, মিডল অর্ডারও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ।
প্রায় এক বছর পর ঘরের মাঠ ইডেনে খেলতে নামল বাংলা। ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় মহারাষ্ট্র। তাদের সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর হতে চলেছে, তা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে বাংলার ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরোতে পারলেন না। মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর অঙ্কুর পালের ইনিংসও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১ রান।
বাংলার ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা সুদীপ কুমার ঘরামিও বড় রান করতে পারলেন না। ১৯ রান করে তাঁকে ফিরতে হয় সাজঘরে। সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালকে উপরের দিকে ব্যাট করতে পাঠিয়েও কোনও লাভ হয়নি। কোনও রান না করেই আউট হন তিনি। অন্যদিকে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাটে খারাপ সময় অব্যাহত। এদিনও মাত্র ৭ রান করে আউট হন তিনি। ফলে দ্রুত চাপে পড়ে যায় বাংলা।
পরপর উইকেট হারিয়ে যখন বাংলার ইনিংস কার্যত দিশাহীন, তখন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিষেক পোড়েল। তাঁর ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস বাংলাকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করে। তাঁকে সঙ্গ দেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় সেই লড়াই যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪৩ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলার প্রথম ইনিংস। ইডেনের মতো মাঠে এই স্কোর যে প্রতিপক্ষকে খুব বেশি চাপে ফেলবে না, তা বলাই যায়।
তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতার পর বল হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করেন বাংলার পেসাররা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মহম্মদ শামি। নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে মহারাষ্ট্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। প্রথমে ওপেনার পৃথ্বী শ-এর উইকেট তুলে নেন শামি। ১২ রান করার পর শামির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর দিগ্বিজয় পাটিলকেও ফিরিয়ে দেন বাংলার তারকা পেসার। ফলে মাত্র ২১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় মহারাষ্ট্র। বাংলার ইনিংসের ব্যর্থতার পর শামিদের এই লড়াই কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে সমর্থকদের।
কিন্তু দিনের শেষদিকে প্রকৃতির বাধায় খেলার গতি থেমে যায়। খারাপ আলোর কারণে দুপুর দুটো নাগাদ খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ প্রথম দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। প্রথম দিনের শেষে মহারাষ্ট্রের স্কোর দুই উইকেটে ২১। এখনও বাংলার থেকে ১২২ রান পিছিয়ে তারা।
এদিন ইডেনে আরও একটি দৃশ্য নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। খেলা শেষ হওয়ার পর মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক পৃথ্বী শ-এর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। ঘটনাটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, সৌরভ বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ এবং পৃথ্বীও আইপিএলে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন। যদিও গত মরশুমে দিল্লির হয়ে একটি ম্যাচেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি এই ওপেনার।
আসন্ন আইপিএলে পৃথ্বীর ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে ক্রিকেটমহলে। দিল্লি ক্যাপিটালসে তিনি আবার সুযোগ পাবেন কি না, সেই উত্তর অবশ্য সময়ই দেবে। তবে তার আগে ইডেনে সৌরভ ও পৃথ্বীর এই সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও দু’জনের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
প্রথম দিনটা বাংলার কাছে মিশ্র অভিজ্ঞতার। একদিকে ব্যাটিংয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থতা, অন্যদিকে বল হাতে শামির লড়াই। জয়ের হ্যাটট্রিকের পর বাংলার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা। নাহলে প্রতিটি ম্যাচে বোলারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দলের জন্য সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

