কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরে শৌচাগার থেকে ক্যান্টিনের এক অভিজ্ঞ অস্থায়ী কর্মীর রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। সোমবার সকালে বিধানসভার ক্যাটারিং বিভাগের শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয় ওই কর্মীর অচৈতন্য দেহ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম উমেশ চন্দ্র দাস। তিনি গত প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে বিধানসভার ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় থানার পাশাপাশি লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নেমেছে। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকেও অবহিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার তিলজলা এলাকার বাসিন্দা উমেশ কাজের সূত্রে বিধানসভা ক্যান্টিন চত্বরেই রাত কাটাতেন। প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি শৌচাগারে যান। কিন্তু সকাল ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং ডাকাডাকি করে উত্তর না মেলায় অবশেষে শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন সহকর্মীরা। সেখানে মেঝেতে তাঁকে নিথর ও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হেয়ার স্ট্রিট ও হেস্টিংস থানার পুলিশ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মৃতের শরীরে কোনও ধরনের বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা অন্তর্ঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পরিবারের তরফেও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মৃত্যু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নাকি এর পেছনে অন্য কোনও শারীরিক বা আকস্মিক কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। যেকোনো ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বিধানসভার সংশ্লিষ্ট অংশটি ঘিরে রেখে অন্যান্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

