পুজোর আনন্দ মাটি করার চক্রান্ত হতে পারে, মুর্শিদাবাদ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মুর্শিদাবাদ : শারদোৎসবের প্রাক্কালে দুর্গাপূজার আনন্দ ও ভাবগাম্ভীর্য বিঘ্নিত করার চক্রান্ত সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনকে সতর্ক থাকার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদের লালবাগে ঐতিহ্যবাহী ‘বুধসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব’-এর শুভ উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কিছু অসামাজিক উপাদান ও কুচক্রী মহল এই পুজোর আনন্দকে মাটি করার হীন চেষ্টা চালাতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের সবসময় সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষত স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাবধানবাণী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি জেলার দুটি পৃথক পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, বর্তমানে সেই ঘটনাগুলির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি পুলিশ ও আয়োজকদের সচেতন করে বলেন যে, কেবল দুষ্কৃতীদের অন্তর্ঘাত বা ষড়যন্ত্রই নয়, সামান্য অসাবধানতা থেকেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই উপচে পড়া ভিড় এবং প্যান্ডেলগুলিতে সুরক্ষার সমস্ত দিক কঠোরভাবে সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

পুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে বিগত বছরগুলিতে প্রায় ১২ হাজার নতুন দুর্গাপূজার সূচনা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতীতে রাজ্যে যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটি ছিল, এবছর তা বেড়ে ৫৮ হাজারের বেশি পুজো কমিটিকে সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়েছে। শুধু আর্থিক অনুদানই নয়, রাজ্যজুড়ে সমস্ত পুজো কমিটির জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের খরচ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স বা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও করমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সনাতন সংস্কৃতি ও বাংলার ঐতিহ্যকে সজীব ও প্রবহমান রাখতে জেলার পুজো উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের এই উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুর্শিদাবাদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক উপহারের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন যে, জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য খুব শীঘ্রই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর পাশাপাশি, গঙ্গার ভয়ংকর ভাঙন রোধ করতে দ্রুত স্থায়ী কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন যে, এই বিষয়ে আগামী ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়াও লালবাগের একটি ঐতিহাসিক হ্রদের রূপায়ণ ও সৌন্দর্যসাধন এবং জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষলগ্নে মুখ্যমন্ত্রী ‘নেশামুক্ত ভারত’-এর পাশাপাশি ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘নেশামুক্ত মুর্শিদাবাদ’ গড়ে তোলার ডাক দেন। এর পাশাপাশি, এই জেলায় বাল্যবিবাহের উচ্চ হারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, সমাজের এই মারাত্মক ব্যাধি ও কুপ্রথাকে সমূলে উৎপাটন করতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 16 =