তদন্তের গোপনীয়তা ফাঁস মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা : চলমান বিভিন্ন তদন্ত মামলায় গণমাধ্যমে গোপনীয় তথ্য ও নথিপত্র প্রকাশের বিরোধিতায় দায়ের করা জরুরি আবেদনের শুনানির আবেদন কলকাতা হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের পক্ষ থেকে বড় ধরনের আইনি ধাক্কার মুখোমুখি হলেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে এই দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর প্রধান যুক্তি ছিল যে, এই মামলার মূল শুনানির জন্য আদালত আগামী ডিসেম্বর মাস ধার্য করেছে, কিন্তু এরই মধ্যে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য ও প্রতিবেদন প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সময়ে শুনানি সম্ভব না হলে বিষয়টি অবকাশকালীন বেঞ্চে স্থানান্তরের জোরালো আবেদন জানান আইনজীবী।

তবে বিচারপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর এই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। আদালত কঠোর মন্তব্য করে জানায় যে, অবকাশকালীন বেঞ্চ এমন কোনো ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ বা আবর্জনা ফেলার জায়গা নয় যে সমস্ত বিচারাধীন মামলা সেখানে গাদাগাদি করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিচারক মনে করিয়ে দেন যে, এই একই বিষয় এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চের সামনেও উঠেছিল এবং সেখান থেকে তা ডিভিশন বেঞ্চের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মামলার কোনো রকম জরুরি বা তাড়াতাড়ি করে শুনানি করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মূল আবেদনে জোরালো অভিযোগ তুলেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের সময় যেসব প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং যে সমস্ত ব্যক্তিগত বিবরণ নেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত সুকৌশলে ও ইচ্ছাকৃতভাবে গণমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে অভিষেক বিভিন্ন অভিযোগের জেরে পুলিশ ও সিআইডি সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে একাধিকবার তলব করে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জেরা করেছেন। অভিষেকের অভিযোগ, জেরার সময় তদন্তকারীরা তাঁকে যে সমস্ত নির্দিষ্ট প্রশ্ন করেন, তা বাইরে আসার পরেই গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে চলে আসে। বিশেষ করে গত ১১ জুন ভবানী ভবনে তাঁকে যে সমস্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ বিবরণও তৎক্ষণাৎ গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল বলে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন।

এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইজীবীরা আদালতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছিলেন যে, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে লাগাতার অনুমানমূলক, বানোয়াট ও চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করা হচ্ছে।

তাঁরা সে সময় যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মক্কেলের বিদেশ সফর, ব্যক্তিগত জীবন এবং বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বিচারাধীন বা চলমান তদন্তের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। আবেদনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতার মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা এবং সম্মানের মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 11 =