জাপান যেন মীরাবাই চানুর জন্য আলাদা এক আবেগের নাম। এই দেশের মাটিতেই অলিম্পিক পদকের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে রুপো জিতে ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেছিলেন মণিপুরের এই তারকা। পাঁচ বছর পর আবার জাপানেই এল আরও একটি বহু প্রতীক্ষিত সাফল্য। নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে রুপো জিতে অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন চানু।
এশিয়ান গেমসে পদক জয় এত দিন পর্যন্ত অধরাই ছিল তাঁর কাছে। এক বার নয়, বছরের পর বছর সেই স্বপ্নের পিছনে ছুটেছেন তিনি। এবার সেই অপেক্ষা শেষ হয়েছে। তাই রুপোর পদক গলায় ঝোলানোর পর তাঁর আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল স্বস্তিও। দীর্ঘ দিনের একটা চাপ যেন মুহূর্তে নেমে গিয়েছে কাঁধ থেকে।
চানুর কথাতেই স্পষ্ট, এই পদকের গুরুত্ব তাঁর কাছে কতটা। দীর্ঘ সময় ধরে এশিয়ান গেমসে পদক জেতার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। বারবার চেষ্টা করেও সাফল্য না আসায় তৈরি হয়েছিল হতাশা ও সংশয়। কিন্তু নাগোয়ায় সেই অতীতকে পাশে সরিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ের ফল মিলেছে রুপো হয়ে।
টোকিওর স্মৃতির সঙ্গে নাগোয়ার সাফল্যের একটা অদ্ভুত যোগও রয়েছে। জাপানের মাটিতে প্রথম অলিম্পিক পদক এসেছিল তাঁর ঝুলিতে। সেই সাফল্যের পর থেকেই এশিয়ান গেমসের পদককে পরবর্তী লক্ষ্য করে নিয়েছিলেন চানু। তাই নাগোয়ায় রুপো জয় তাঁর কাছে শুধুমাত্র আরও একটি পদক নয়, বরং বহু দিনের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত।
এশিয়ান গেমসকে কখনওই হালকা করে দেখেননি চানু। তাঁর মতে, ভারোত্তোলনে এশিয়ার প্রতিযোগিতার মান অত্যন্ত উঁচু। বিশ্বের সেরা ভারোত্তোলকদের অনেকেই এশিয়ার দেশগুলির প্রতিনিধি। ফলে এই মঞ্চে পদক জয়ও অলিম্পিকের মতোই কঠিন এবং মর্যাদার। সেই কারণেই নাগোয়ায় নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিলেন ৩২ বছরের ভারোত্তোলক।
প্রতিযোগিতার মঞ্চেও সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যায়। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১০ কেজির গণ্ডি পেরনোর লক্ষ্য ছিল তাঁর। প্রতিদ্বন্দ্বীরা কতটা ওজন তুলবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না চানু। ফলে নিরাপদ পথে গিয়ে শুধু পদক নিশ্চিত করার বদলে নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরতেই জোর দিয়েছিলেন তিনি।
সোনার লড়াই যে কঠিন, তা বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। তাই লক্ষ্য স্থির করেছিলেন রুপোর দিকে। তবে সেই রুপোও কোনও কম ওজন তুলে বা হিসাব কষে পাওয়ার চেষ্টা করেননি। নিজের সামর্থ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত গিয়ে লড়াই করেছেন। তাঁর কাছে পদকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।
এশিয়ান গেমসে এত দিনের অপেক্ষা শেষ হওয়ার পর তাই স্বস্তিই সবচেয়ে বড় অনুভূতি চানুর। এক যুগের অপেক্ষা, একাধিক ব্যর্থতার স্মৃতি, সংশয় এবং চাপ—সব কিছুর শেষে জাপানের মাটিতেই এল সেই কাঙ্ক্ষিত পদক। টোকিওতে অলিম্পিকের রুপো, নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের রুপো জাপান যেন বারবারই মীরাবাই চানুর সাফল্যের সাক্ষী হয়ে থাকল।

