শিলিগুড়ি : গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার চরম কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ি স্থিত উত্তরকন্যা সচিবালয় থেকে ভার্চুয়াল প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জিটিএ-তে সংঘটিত সমস্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জিটিএ-র অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের করের টাকা নয়ছয় করার মতো একাধিক বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হবে। প্রয়োজনে এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হবে বলে জানান তিনি। দুর্নীতিদমনে রাজ্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
জিটিএ-র দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়নই যে সরকারের মূল অগ্রাধিকার, তাও পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পং সহ গোটা পাহাড়ি অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি জিটিএ-র জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কালিম্পং টাউন হলে আয়োজিত সরকারি কর্মসূচিতে পাহাড়ের বাসিন্দাদের হাতে সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তবে প্রচণ্ড খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতার কারণে আকাশপথে তাঁর হেলিকপ্টার কালিম্পঙে নামতে পারেনি। দু’বার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সুরক্ষার স্বার্থে হেলিকপ্টারটিকে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যার কাছে ভিডিওকন ময়দানে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এরপর উত্তরকন্যা সচিবালয় থেকেই ভার্চুয়ালি কালিম্পঙের কর্মসূচিতে যুক্ত হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই জিটিএ-র কাজকর্ম ও পাহাড়ের উন্নয়ন পর্যালোচনার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

