ক্যানিং : ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর চরে নিজের মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশ রাম দাস। অভিযোগ, নদীর গতিপথ বন্ধ করে, ম্যানগ্রোভ কেটে অনেকটা জায়গার উপর নির্মাণ গড়েছেন তিনি। আবার সেই নির্মাণ সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সরকারি জমির উপর, সরকারি অর্থে তৈরি এই আশ্রম কিভাবে বিধায়ক নিজের মায়ের নামে চালান তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বিজেপির তরফে মহকুমা ও ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, মহকুমাশাসকের দফতর, বিডিও, জেলাশাসক সমস্ত জায়গায় অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে প্রশাসন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরেশ।
সরকারি তদন্তে দাবি, বৃদ্ধাশ্রমের নামে ১.৩৫ একর জমির সরকারি পাট্টা থাকলেও বৃদ্ধাশ্রমের দখলে রয়েছে ৩.৩৭ একর জমি। বাড়তি জমিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করে কমিউনিটি হল সহ, খেলার মাঠ, থাকার জায়গা, জলাশয় সবই রয়েছে। গোটা জায়গাটা সরকারি অর্থে প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সাংসদ তহবিল, বিইইউপি, আরআইডিএফ, ১৫তম ফিনান্স, পঞ্চায়েতী রাজ সহ অন্যান্য বিভাগীয় ফান্ড দিয়ে নানা কাজ করা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রম সহ পাশের জায়গায়। আর সমস্ত জমিই নিজের দখলে রেখেছেন বিধায়ক। তাই ১৫ দিনের মধ্যে সরকারি জমি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ মহকুমা প্রশাসনের তরফে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই জমি নিজের হেফাজতে রাখা সংক্রান্ত কোন নথি যদি থাকে বিধায়কের কাছে তাহলে উক্ত সময়ের মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ক্যানিং ১ বিডিওকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিধরনের নির্মাণ রয়েছে সেখানে, কোনও এজেন্সি সেই নির্মাণের কাজ করেছিল এবং কোনও ফান্ড ব্যবহার করা হয়েছে সেই নির্মাণে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
যদিও মঙ্গলবার সকালে বৃদ্ধাশ্রমের সামনে থেকে পরেশ সমাজ মাধ্যমে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে দাবি করেন, “ সরকারি নিয়ম মেনেই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে। সরকারি পাট্টা দেওয়া হয়েছিল এই বৃদ্ধাশ্রম তৈরির জন্য। বিধায়ক হওয়ার অনেক আগে থেকেই এই বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমের একাধিক অনুষ্ঠান, পুজোতে যেমন সরকারি আধিকারিকরা এসেছেন, তেমনি এখানকার দুর্গাপুজোও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বছরের পর বছর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে, আমাকে কালিমালিপ্ত করতে নোংরামো করা হচ্ছে।”
পরেশের বক্তব্যের পাল্টা বিজেপি নেতা পবিত্র পাত্র ও অসিত মন্ডলরা বলেন, “ সরকারি টাকায় তৈরি হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রম। সরকারি জায়গায় তৈরি হয়েছে। নদীর গতিপথ বন্ধ করে ম্যানগ্রোভ কেটে তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থে, সরকারি জায়গায় যখন এটা তৈরি হয়েছে এটা সরকারই অধিগ্রহণ করবে, কেন বিধায়কের মায়ের নামে এটা হবে! বৃদ্ধাশ্রমের নামে এখানে নানা ধরনের নোংরামো হয় বলেও শুনেছি।”
পরেশ বলেন, “ বৃদ্ধাশ্রমের জায়গা আমি সরকারি পাট্টা নিয়েই তৈরি করেছি। পাশের জায়গায় নির্মাণ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কমিউনিটি সেন্টার, আবাসিক ফুটবল কোচিং কোচিং ক্যাম্পের জন্য আবেদন করেছিলাম। সরকার মঞ্জুর করেছে বলেই হয়েছিল। এ বিষয়ে কিছু বলার থাকলে সেই আধিকারিকরাই বলবেন।”
যদিও এ বিষয়ে মহকুমা প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

