জুড়েলের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে শক্ত ভিত ভারতের ! ব্যাকফুটে লঙ্কাবাহিনী 

কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি ভারতের দখলেই ছিল। প্রথম দিনের ৩০০/৫ স্কোর থেকে এগিয়ে ভারত আরও ২০৩ রান যোগ করে ৫০৩/৯-এ ইনিংস ঘোষণা করে। এই বিশাল সংগ্রহ গড়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেন ধ্রুব জুড়েল। অপরাজিত ১১৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি শুধু দলকে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেননি, নিজের কেরিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট শতরানও পূর্ণ করেন। তাঁর ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং ভারতের ইনিংসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
প্রথম দিনের শেষে ঋষভ পন্থ কব্জিতে চোট পেয়ে অবসর নিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় দিনে তিনি আবার ব্যাট হাতে মাঠে নামেন এবং ৬৩ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। পন্থ ও জুড়েল মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ভারতের রানকে আরও মজবুত ভিত্তি দেন। অন্যদিকে সারাংশ জৈন বড় রান করতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র ৬ রান করে ফিরে যান। মানব সুতারও গুরুত্বপূর্ণ ১৮ রান যোগ করেন।
জুড়েলের শতরানের পথে সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ছিল নবম উইকেটের জুটি। মানব সুতার আউট হওয়ার সময় জুড়েলের ব্যক্তিগত রান ছিল ৭৯। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, শেষ ব্যাটারদের নিয়ে হয়তো শতরান আর সম্ভব হবে না। কিন্তু সেই আশঙ্কা সত্যি হতে দেননি মহম্মদ সিরাজ। তিনি মাত্র ৩ রান করলেও ২৯টি বল খেলেন এবং প্রায় ৪৯ মিনিট ক্রিজে থেকে জুড়েলকে অসাধারণ সমর্থন দেন। দু’জনে মিলে নবম উইকেটে ৪৫ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন, যা জুড়েলের শতরান পূর্ণ করতে বড় ভূমিকা রাখে।
শতরানের একেবারে কাছে পৌঁছে জুড়েলকে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়। ৯৯ থেকে ১০০ রানে পৌঁছাতে তিনি ১৩টি বল খেলেন। অবশেষে এক রান নিয়ে তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করতেই সতীর্থদের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে মাঠ। বিশেষ করে সিরাজের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। মনে হচ্ছিল, সতীর্থের শতরান যেন তাঁর নিজের সাফল্যের সমান। এই দৃশ্য ভারতীয় দলের ঐক্য ও পারস্পরিক বিশ্বাসের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
জুড়েলের এই শতরান পরিসংখ্যানের দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৭ সালে পাল্লেকেলেতে হার্দিক পাণ্ড্য সাত নম্বরে নেমে ১০৮ রান করার পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারতের হয়ে এই ব্যাটিং পজিশনে এটিই প্রথম শতরান। এছাড়া ২০২৪ সালে মেলবোর্ন টেস্টে নীতীশ কুমার রেড্ডির শতরানের পর আবারও ভারতের কোনও ব্যাটার সাত নম্বর বা তার নিচে নেমে টেস্টে শতরান করলেন।
ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর জুড়েলকে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে খেলানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এই ইনিংস তার যথার্থতা প্রমাণ করল। উইকেটকিপার হিসেবে পরিচিত হলেও জুড়েল ব্যাট হাতে অসাধারণ পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে দলকে বড় স্কোর এনে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্যেরও প্রমাণ দিলেন তিনি। তাঁর এই লড়াকু শতরান নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =