ইন্ডিয়ান আর্মি – ০
ইস্ট বেঙ্গল এফসি – ১ (পি.ভি. বিষ্ণু ৩৮’)
কলকাতা: রবিবার যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইন্ডিয়ান আর্মির মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। পি.ভি. বিষ্ণুর প্রথমার্ধের চমৎকার হেডারের উপর ভর করে ইন্ডিয়ান আর্মিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। নকআউট পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল হেড আক্রমণাত্মক ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন। গিলের বদলে গোলপোস্টে ছিলেন লাচেনপা। রক্ষণভাগে তাকে সহায়তার জন্য ছিলেন জয় গুপ্তা, নরেন্দর গাহলোট, লালচুংনুঙ্গা এবং বরিস সিং। রোহিত কুমার ও মহম্মদ রশিদ মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন। সেই সঙ্গে দানি রামিরেজ, ক্রিস্টোফার ইকোনোমিডিস এবং পি.ভি. বিষ্ণু সহ স্ট্রাইকার ডেভিড লালহলানসাঙ্গাকে আক্রমণ ভাগে রাখেন হাবা। ম্যাচের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল মাঠের দখল নিয়ে নেয়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে একটি দারুণ পাস থেকে প্রথম বড় সুযোগ আসে, কিন্তু স্প্যানিশ প্লে-মেকার দানি রামিরেজ সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। লাল-হলুদ তাদের আক্রমণ জারি রাখে এবং ১২ মিনিটে একটি সেট-পিস থেকে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রামিরেজের বাঁ পায়ের একটি নিখুঁত ইন-সুইঙ্গার ফ্রি-কিক গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং সাইড-নেটের বাইরে লাগে। ২০ মিনিটে রামিরেজ বল বাড়িয়ে দেন ডেভিড লালহলানসাঙ্গাকে, কিন্তু ফিনিশ করতে ব্যর্থ হন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই লালচুংনুঙ্গা আক্রমণভাগে উঠে এসে দূরপাল্লার একটি জোরালো শট নেন, যা ভাবিন্দ্র মল্ল ঠাকুর চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন। ইন্ডিয়ান আর্মি টানা কয়েকটা পাস খেলে আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টায় ছিল। ২৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি আসে, যখন জয় গুপ্তার একটি নিখুঁত ক্রস থেকে একদম ফাঁকায় গোলরক্ষকের মুখোমুখি হন পি.ভি. বিষ্ণু। তবে বিষ্ণুর মাটি ঘেঁষা শটটি সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়। অবশেষে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ইস্টবেঙ্গল। ইকোনোমিডিসের একটি চমৎকার ক্রসে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডের সাহায্যে বল জালে জড়ান বিষ্ণু। নিজের আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষক ঠাকুর বলটি হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারলেও তা আটকাতে পারেননি। প্রথমার্ধের বাকি সময়টা লাল-হলুদ ব্রিগেড ম্যাচে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। বিরতির ঠিক আগে মহম্মদ বাসিম রশিদ দূর থেকে শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইন্ডিয়ান আর্মি কিছুটা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায় এবং একটি কর্নার আদায় করে, যা ইস্টবেঙ্গল রক্ষণভাগ সহজেই প্রতিহত করে। এরপর রশিদ বক্সের বেশ দূর থেকে একটি শট নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। পরিবর্ত খেলোয়াড় জেসিন টিকে রশিদের একটি লং বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। কিন্তু তার নেওয়া শটটি দুর্ভাগ্যবশত ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। একাধিক সুযোগ নষ্ট করলেও, লাল-হলুদ ব্রিগেড শেষ পর্যন্ত একটি যোগ্য জয় তুলে নেয়। তবে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা নিশ্চিত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে, জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

