নয়াদিল্লি : অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ কথিত চুরির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার আগামী ১০ আগস্টের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তাই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে ২৭ জুলাই উত্তর প্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, দানের অর্থ কথিত চুরির অভিযোগের তদন্তে নতুন করে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। এরপর আদালত তদন্তে একজন ফরেনসিক অডিটরকে যুক্ত করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি সিটকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানির সময় তুষার মেহতা জানিয়েছিলেন, লখনউ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস.-এর নেতৃত্বে সিট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। অন্যদিকে, মামলাকারীদের হয়ে সওয়াল করা প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামত দাবি করেন, দেশজুড়ে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সংগৃহীত চাঁদার অডিট করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ট্রাস্টের কাছে জমা পড়া অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তার হিসাবও প্রকাশ্যে আনা উচিত। এতে দাতাদের কাছে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে ১৩ জুলাই এই মামলায় রাম মন্দির ট্রাস্ট এবং উত্তর প্রদেশ সরকারকে নোটিস দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সিট গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিও আদালত তলব করেছিল। দুই আইনজীবী অজয় কুমার রায় এবং দিনেশ কুমার যাদব এই মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার, উত্তর প্রদেশ সরকার এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টকে আর্থিক অনিয়ম রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়টির সঙ্গে কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িত।
এর আগেও এক আইনজীবী এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। আইনজীবী অনুপ অবস্থী চিঠি দিয়ে আদালতকে জানান, বিষয়টি দেশের কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর গঠিত ট্রাস্টের অধীনেই মন্দির পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে দর্শনে আসছেন এবং দানবাক্সে অর্থ প্রদান করছেন।

