‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনা’র ব্যানারের জন্য কি শাস্তি পাবেন মেসিরা

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার বাঁধভাঙা আনন্দে সঙ্গী ছিল একটি ব্যানারও। যেখানে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি নিয়ে রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা। অনেকের মনেই প্রশ্ন—এই ব্যানারের কারণে কি শাস্তির খড়্গ নেমে আসতে পারে আর্জেন্টাইন দলের ওপর?

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বন্দ্ব বহুদিনের। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপের দখল নিলে পাল্টা আঘাত হানে ইংল্যান্ড। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে দ্বীপের দখল নেয় ইংল্যান্ড। ফকল্যান্ড হারানোর দুঃখ আর্জেন্টাইনদের কাছে এখনো দগদগে এক স্মৃতি। তাদের দাবি, মালভিনাস (ফকল্যান্ড) এখনো তাদের।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোলে ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করার পর ফকল্যান্ডের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

যদিও ম্যাচের আগে বারবার বলা হচ্ছিল, ম্যাচটা শুধুই ফুটবলের, কোনো যুদ্ধ নয়। কিন্তু সেটা কি আর সম্ভব? ২০২৬ সালে এসেও দগদগে সেই স্মৃতি, ম্যাচ শেষের উদ্‌যাপনে এবার তারা নেমেছিল ‘মালভিনা আর্জেন্টাইন’ ব্যানার নিয়ে। আর্জেন্টিনার জনগণ ফকল্যান্ডকে স্প্যানিশ ভাষায় ‘মালভিনাস’ বলেই ডাকে।

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর নিয়ম অনুযায়ী, ‘মাঠে খেলোয়াড়েরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি প্রদর্শন করতে পারবেন না।’ যে কারণে ম্যাচের আগেই মাঠে ফকল্যান্ডের পতাকা নিষিদ্ধ করে ফিফা। সেখানে এই ব্যানার নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করল আর্জেন্টিনা, সেটাই প্রশ্ন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফিফাকে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ বিজনেস সেক্রেটারি পিটার কাইল বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার এই ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করব, ফিফা বিষয়টির সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে।’

তবে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েলের কাছে ফকল্যান্ড একটা আবেগের নাম। এক্সে করা এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার ছিল, আছে, থাকবে। তারা হয়তো ব্যানার আনা বন্ধ করবে, কিন্তু ফকল্যান্ড আছে আর্জেন্টাইনদের রক্তে, আর্জেন্টাইনদের মনে।’

ফুটবলের নিরপেক্ষ মাঠে রাজনৈতিক কোনো স্লোগান বা বক্তব্য প্রদর্শন করলে ফিফা সাধারণত জরিমানা করে থাকে। জরিমানার মাত্রা হতে পারে ৫ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় জড়িত থাকলে তাঁদের নিষিদ্ধও করা হতে পারে।

ফুটবলের মাঠকে নিরপেক্ষ রাখতে বরাবরই কড়া শিক্ষকের মতো আচরণ করে আসছে ফিফা। বিশ্বকাপের শুরুতে হাইতির জার্সি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল ফিফা। নিজেদের স্বাধীনতাসংগ্রামের একটি প্রতিকৃতি থাকায় তাদের জার্সি পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিল ফিফা।

শুধু তা–ই নয়, কোচ দিদিয়ের দেশমের মায়ের মৃত্যুতে এক মিনিটের শোক ও কালো ব্যাজ পরার অনুমতি চেয়েছিল ফ্রান্স। সে আবেদনও ফিরিয়ে দেয় ফিফা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 15 =