১৯তম দিনে সোনম ওয়াংচুকের অনশন, অঙ্গ বিকলের আশঙ্কা; প্রতিদিন স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট

নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং এনইইটি প্রশ্নফাঁস-সহ একাধিক ইস্যুতে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশন ১৯তম দিনে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শরীর এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দ্রুত চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ না হলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসক সতীশ লাম্বা। তিনি জানান, গত ১৯ দিনে ওয়াংচুকের ওজন ৯ কিলোগ্রামেরও বেশি কমে বর্তমানে ৫৬.৯ কেজিতে নেমে এসেছে। রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার, হৃদ্স্পন্দনের হার মিনিটে ৭২ এবং রক্তচাপ শোয়া অবস্থায় ১০৫/৬১ ও বসা অবস্থায় ১০১/৬৫। আপাতত তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন এবং শরীরে জলের ভারসাম্যও স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে চিকিৎসকদের উদ্বেগ শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন নিয়ে। ডা. লাম্বার বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শরীর এখন ‘প্রলম্বিত অনাহার’-এর দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। এই পর্যায়ে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য পেশি ক্ষয় করতে শুরু করে, যার ফলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তৃতীয় ধাপে কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক দলের নিবিড় নজরদারি চলছে।

এদিকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্টও। বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, “প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।”

শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকরা পরীক্ষা করছেন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এই আশ্বাস নথিভুক্ত করে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রতিদিন তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন চালিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ চিকিৎসা হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর আদালত মামলার নিষ্পত্তি করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে ওয়াংচুক অনশন শুরু করেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য উপবাসে বসেন। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে বৃহৎ শান্তিপূর্ণ পদযাত্রারও ডাক দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এবং আদালতের হস্তক্ষেপের পর আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three − 1 =