বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ড: ধৃত ৩ অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল

বারুইপুর : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের তদন্তে আরও গতি আনল বিশেষ তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার ধৃত তিন অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা। সেখানে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ ও নমুনা সংগ্রহের জন্য এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় একটি ফরেন্সিক দলও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন ধৃত তিন অভিযুক্ত— কবীর মোল্লা, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সেই রেললাইনের ধারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে নাবালিকাকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা ধৃতদের উপস্থিতিতে খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় দু’জন সাক্ষীকেও সেখানে উপস্থিত রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে এক তদন্তকারী অফিসারের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে, পুলিশের পাল্টা আত্মরক্ষামূলক গুলিতে নিহত হয় প্রভাস। সেই এনকাউন্টারের ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ পর আজ বাকি তিন অভিযুক্তকে নিয়ে পুনরায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, এই ঘটনার তদন্ত তাঁর সরাসরি নজরদারিতে চলবে এবং অপরাধীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর নির্যাতিতার বাবাও পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

বর্তমানে বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমটি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মূল মামলা। দ্বিতীয়টি বিক্ষোভের সময় গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা। তৃতীয়টি পুলিশের ওপর হামলা, রাস্তা অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলা এবং চতুর্থটি রেল অবরোধ ও রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 5 =